এইতো তিন দিন আগে স্পেনকে রুখে দিয়ে রূপকথার গল্প লিখেছিল কেপ ভার্দে। ড্র করেও ম্যাচ জেতার মতো উল্লাসে মেতেছিল দ্বীপ দেশটি।এবার পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দেশটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপে গোল করতে পেরেছে। আর সেই গোলই এনে দিয়েছে মহামূল্যবান একটি পয়েন্ট। আর অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে আসা পর্তুগালের শুরুটা হলো হতাশা দিয়ে।
প্রথম ফুটবলার হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়েন লিওনেল মেসি। ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলো ছড়িয়েছেন মেসি; কিন্তু কঙ্গোর বিপক্ষে নিষ্প্রাণ ছিলেন রোনালদো। তাতে টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করার অপেক্ষা বাড়ল ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের।বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল আটটি। গত কয়েকটি বড় আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। ২০২২ সালের আসরে করেছিলেন মোটে এক গোল, সেটাও ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। এরপর ২০২৪ ইউরোতে পাঁচ ম্যাচ খেলে কোনো গোলের দেখা পাননি।
হিউস্টনে গত রাতে কিক অফের পর থেকেই কঙ্গোর রক্ষণে হানা দিতে থাকে পর্তুগাল।দুই উইং ধরে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে দলটি। প্রথম গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতেও হয়নি। খেলার ষষ্ঠ মিনিটেই পর্তুগালকে লিড এনে দেন জোয়াও নেভেস। পেদ্রো নেতোর মাপা ক্রসে লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন নেভেস। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মাতে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। এবারের আসরের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল এটি। প্রথমটি করেছিলেন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির এনমেচা।
পিছিয়ে পড়ে পর্তুগালের ওপর চাপ ফেলতে চেষ্টা করে কঙ্গো। সুযোগও তৈরি করেছিল, কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। সময় বাড়লে ঢিমেতালে চলতে থাকে ম্যাচ। পর্তুগাল মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিলেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি। এমনকি প্রথমার্ধের শেষ ৩০ মিনিটে গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা। উল্টো বিরতির ঠিক আগে পর্তুগালকে চমকে দিয়ে সমতা ফেরায় কঙ্গো। ডান দিক থেকে মাসুয়াকুর হাওয়ায় ভাসানো বলে লাফিয়ে উঠে হেডে জাল খুঁজে নেন ইয়োন ভিসা। বিশ্বকাপের মঞ্চে কঙ্গোর এটিই প্রথম গোল। বিরতির পরও পর্তুগালের ওপর চাপ ধরে রাখে কঙ্গো।
অনেকটা সময় নিষ্প্রভ থাকা রোনালদোর সামনে সুযোগ আসে ৬৮ মিনিটে; কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সতীর্থের বাড়ানো পাস বক্সের ভেতরে পেয়ে শট নিলেও তা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বাকি সময়ে কঙ্গোর বক্সে এদিন হতাশার সময়ই পার করেছেন রোনালদো। তাতে পর্তুগালও পায়নি আর গোলের দেখা। হতাশার ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল পর্তুগাল। আর শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা কঙ্গো পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট।


