শুরুটা ভালো হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। মরক্কোর বিপক্ষে কোনোক্রমে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে তারা যেমন খেলেছে, তা মন ভরাতে পারেনি ভক্ত-সমর্থকদের।পাশাপাশি দলের মধ্যেও একটা বিষণ্নতা ভর করেছে সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে দলের বেইস ক্যাম্পে থাকলেও অনুশীলনে নামেননি তিনি এক দিনও। সোমবার তাঁর চোট লাগা পায়ের আরেকবার স্ক্যান করানো হয়, তাতে গ্রুপ পর্বেই চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ফেরা নিয়ে তৈরি হয় শঙ্কা। তবে সেলেসাও তাঁবুতে স্বস্তির খবর এসেছে পরদিনই, নেইমার ফিরেছেন একক অনুশীলনে।
শনিবার ভোরে ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা হাইতির বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে। শেষ বত্রিশে পা রাখাটা নির্বিঘ্ন করতে সেই ম্যাচে জয় পেতে হবে সেলেসাওদের। তাই শিষ্যদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। একটি জয় যেমন পাল্টে দিতে পারে দলকে, তেমনি নেইমার কিছু সময়ের জন্য নামতে পারলেই চাঙ্গা হয়ে উঠবে দল।
যদিও সেই সুপারস্টার এখন আর দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক নেই, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি দলের মধ্যে পরিবেশটাই পাল্টে দেয়। আরো উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত হয়েই তখন যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলা এই তারকা পায়ের পেশির সমস্যায় পড়েন। তার পর থেকে মাঠেই নামেননি। তাঁর অভাবে প্রথম ম্যাচে অ্যাটলাস লায়নসের বিপক্ষে বেশ ছন্নছাড়া মনে হয়েছে আনচেলোত্তির শিষ্যদের।চলতি বিশ্বকাপে তাই ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ফেরার অপেক্ষায় অধীর দলের সবাই এবং ভক্ত-সমর্থকরা।
অবশেষে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর হচ্ছে, অনুশীলন শুরু করেছেন নেইমার। কোচিং স্টাফদের সহায়তায় কিছু ড্রিল ও শারীরিক কসরত করেছেন তিনি এবং বেশ কিছুক্ষণ মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাঁকে। ঠিক এক মাস পর মাঠে ফিরলেও তাঁকে অস্বস্তিতেও দেখা যায়নি, ফলে দ্রুতই ফিরতে পারবেন—এমনটাই ধারণা করছে দলের মেডিক্যাল বিভাগ। যদিও নিশ্চিত করা হয়েছে, পরের ম্যাচে খেলবেন না নেইমার। তাঁর বিষয়ে কোচ আনচেলোত্তি বলেছেন, ‘নেইমার যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দিতে পারবে।’ অর্থাৎ নক আউট পর্বের আগে এবারের আসরে তাঁকে ম্যাচ খেলতে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ।


