Homeলন্ডনঅভিবাসন লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক, চাপে ব্রিটিশ সরকার

অভিবাসন লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক, চাপে ব্রিটিশ সরকার

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৫৯টি কাবাব হাউস, ৭৯টি ভেপ শপ এবং ১৬টি কার ওয়াশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য স্কিলড ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স পেয়েছে। এ তথ্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, দক্ষ কর্মী আনার জন্য তৈরি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কিছু প্রতিষ্ঠান কম দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাজ্যে আনার পথ তৈরি করছে। বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ এ ব্যবস্থাকে ‘ভিসা কারখানা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

তাদের দাবি, প্রকৃত দক্ষ জনবল সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অভিবাসন নীতির ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিদেশি শ্রমিক আনছে, যা পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এদিকে অভিবাসন ইস্যুকে ঘিরে জনমনে অসন্তোষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি শহরে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। সাউদাম্পটন ও বেলফাস্টে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এ অবস্থায় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের বাজেট সংকটের কারণে পুলিশ বাহিনী বাড়তি চাপ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ—এই দুই সংকট এখন ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটকে একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য