Homeঅপরাধবিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণা

বিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণা

গ্রেপ্তার ৩

সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র ৩ হাজার টাকার জরিমানার মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে এক ভুক্তভোগী হারিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রমকে পুঁজি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এমন প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। এ ঘটনায় চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন—রাব্বি শেখ, রিয়াদ হোসেন ও সাজ্জাদ হোসেন। উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে গত সোমবার খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে রাব্বি, ফেনী সদর থেকে রিয়াদ এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, ট্রাফিক জরিমানা বা মামলা-সংক্রান্ত বার্তা পাঠাত। বার্তার সঙ্গে দেওয়া হতো একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক, যা দেখতে বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মতো। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করায় অনেকেই সেটিকে আসল মনে করে সেখানে প্রবেশ করতেন।

তদন্তে জানা গেছে, এক ভুক্তভোগী মোবাইলে পাওয়া বার্তায় দেখতে পান, তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ ছিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করলে অর্ধেক অর্থ দিলেই হবে। বিষয়টি সত্য মনে করে তিনি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য এবং ওটিপি প্রদান করেন। এর পরপরই তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়ে যায়।

সিআইডির তথ্যমতে, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে সানা শামীনুর রহমান বলেন, ‘জরিমানা পরিশোধ বা মামলা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কথা বলে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্যাংক কার্ড নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করত। পরে কৌশলে ওটিপি নিয়ে তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে ফেলত।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হওয়া মামলার কপি শুধু ডাকযোগে পাঠায়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো কোনো এসএমএস, লিংক বা অনলাইন পেমেন্ট-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার আগে তথ্য যাচাই করতে হবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য