অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন-রায়হান খান, পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানি। গত ১৫ জুন রায়হান ও পাভেলকে নরসিংদী সদরের চিনিশপুরের জেলখানা মোড় থেকে ও আবু জোবায়ের সানিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিআইজি সানা শামীমুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইট বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে। সমাজমাধ্যমে ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করে। পরে সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিতে প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেট খুলতে হতো।
অভিযুক্তরা অংশগ্রহণকারীদের বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ বিভিন্ন এমএফএস, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিত। জমা করা অর্থের বিপরীতে বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যোগ করা হতো, যা পরে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত হতো। গ্রেপ্তাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। এর আগে একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোলায়মান, সাগর মিয়া এবং জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।


