কোনভাবেই আটকে রাখা গেল না ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অতিমানবীয় এক হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর এই জাদুকরী হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে তিনি স্পর্শ করলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন এলএমটেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ঐতিহাসিক ২০০তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল মেসিময় প্রথমার্ধের আবহ। যদিও শুরুর দিকে মেসির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, তবে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে দেননি তিনি। প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি তুলে নেন এই মহাতারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের একপর্যায়ে মলিয়ার পাসে চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও বিশ্বকাপের ১৫তম গোলটি করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে যান ব্রাজিলের ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওর (১৫ গোল) রেকর্ড।
তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আলজেরিয়ার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। পূর্ণ হয় বিশ্বকাপে মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক! এর ঠিক চার মিনিট পর, ম্যাচের ৮০ মিনিটে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি এই জাদুকরকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে এই ফুটবল ঈশ্বরকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ জানান।
মেসির হ্যাটট্রিক ও ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসানোর এই স্মরণীয় ম্যাচটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশনকে এক অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।


