আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র পরিচালনায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনায় পরীক্ষার কক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ দিতে হবে। তবে প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে ন্যূনতম দুইজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন।
আসন বিন্যাসেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৫ বা ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত (সেশন ২০২৪-২০২৫) শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও এনসিটিবি অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের ভিত্তিতে প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। অন্যদিকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন (সেশন ২০২৩-২০২৪ ও তার আগের) পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের অনুমোদিত সিলেবাস অনুসারে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ১০টা এবং দুপুর ২টায় পরীক্ষা শুরু হবে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রশ্নপত্র তারিখ ও সেটভিত্তিক নিরাপত্তা খামে সংরক্ষণ করতে হবে এবং খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
পরীক্ষার দিন ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণের পর ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের নিরাপত্তায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেট কোড পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে। ব্যবহার না হওয়া প্রশ্নপত্র অক্ষত অবস্থায় শিক্ষা বোর্ডে ফেরত পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কাঁটাযুক্ত সাধারণ ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ঘড়ি বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


