জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অংশগ্রহণে পূর্বনির্ধারিত একটি সভাকে কেন্দ্র করে সোমবার পূর্ব লন্ডনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইস্ট লন্ডন মসজিদসংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
সভাকে ঘিরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রেস্টুরেন্টের সামনে উভয় পক্ষের সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে তিনি সভায় বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন।
মায়েদা গ্রিলের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকও রয়েছেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কেও আরেকটি উত্তেজনাকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা পার্ক এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসনাত আবদুল্লাহ পাশের একটি রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম ছোড়া হয়। ভিডিওতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগতে দেখা যায়।
পরে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরেক দফা উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহতেশামুল হকের সফর ঘিরে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত আচরণ’ বলে উল্লেখ করে দাবি করে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। তাঁর দাবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে কিছু ছাত্র ও তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারেন।


