বিশ্বকাপের শুরুতেই যেসব দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে, তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। তবে চমক জাগানো পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে জাপানও।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার বরাবরই ঈর্ষণীয়। ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল দেশটির ফুটবল, সেই ধারা সফলভাবেই এগিয়ে নিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। শুধু সাফল্যই নয়, আর্জেন্টাইন ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি।
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের কেন্দ্রবিন্দু যে মেসি, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ২০২২ বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বেই তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। অনেকের বিশ্বাস, এবারও তাঁর হাত ধরেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সফল হতে পারে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ছন্দময় ও সৃজনশীল ফুটবল। এবারের আসরেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই প্রত্যাশা। পাশাপাশি মেসির উপস্থিতি লাওতারো মার্তিনেজসহ পুরো দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
মেসির প্রতিভা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তাঁকে ‘জিনিয়াস’ বললেও যেন কম বলা হয়। বছরের পর বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখার ক্ষমতা সত্যিই বিস্ময়কর। তাছাড়া বর্তমানে মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ ও পরিবেশ সম্পর্কেও তাঁর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। মাঠের বৈশিষ্ট্য, বলের গতি কিংবা বাউন্স—সবকিছুই তাঁর পরিচিত। ফলে এবারের বিশ্বকাপেও মেসির কাছ থেকে উচ্চমানের ফুটবল প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে ফ্রান্সের আশার কেন্দ্র কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর্জেন্টিনার জন্য মেসি যেমন, ফ্রান্সের জন্য এমবাপ্পেও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ফরাসি দলের বড় পরিকল্পনা।
১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ম্যারাডোনার উত্তরাধিকার যেমন মেসির মাধ্যমে নতুন উচ্চতা পেয়েছে, তেমনি ফরাসি ফুটবলও আশা করছে এমবাপ্পে ভবিষ্যতে দেশটির ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান উত্তরাধিকারী হয়ে উঠবেন।
এদিকে বিশ্বকাপের শুরুতেই প্রশংসা কুড়িয়েছে জাপান। এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিনিধি হিসেবে আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা। শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লড়ে পয়েন্ট আদায় করে নেওয়া জাপানের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।
পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় জাপানি ফুটবলের বড় বৈশিষ্ট্য। তাদের খেলায় সেই গুণগুলোরই প্রতিফলন দেখা যায়। তাই সূর্যোদয়ের দেশের এই দলকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।
অন্যদিকে সুইডেনের বিপক্ষে তিউনিসিয়ার বড় ব্যবধানে হারও বিশ্বকাপের বাস্তবতারই অংশ। বড় মঞ্চে এমন অপ্রত্যাশিত ফল নতুন কিছু নয়। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই এমন আরও চমকপ্রদ ও নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব।


