Homeঅর্থনীতিবিদ্যুৎ আমদানি: নেপাল থেকে বাড়তি ২০ মেগাওয়াট প্রশ্নে ভারতের ‘না’

বিদ্যুৎ আমদানি: নেপাল থেকে বাড়তি ২০ মেগাওয়াট প্রশ্নে ভারতের ‘না’

নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির কথা বলে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। ফলে আগামীকাল সোমবার থেকে পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক সদস্য সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

রোববার কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেপাল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল।
 
ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনের সক্ষমতা নেই। এ কারণে অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

সেই সিদ্ধান্তের আলোকে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি ভ্যাপার নিগম লিমিটেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। তবে পরে ভ্যাপার নিগম লিমিটেড জানায়, বর্তমান সঞ্চালন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের সুযোগ নেই।

পিডিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে সমকালকে জানান, নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত থেকে আপাতত বাড়তি বিদ্যুতের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই আগের চুক্তি অনুযায়ী সোমবার থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। ২০ মেগাওয়াটের বিষয়ে পরে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা নেপালের গণমাধ্যমকে বলেন, এবার বাংলাদেশে শুধু ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও আগের নিয়মে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তবে ভারতের তরফে সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা না থাকার কথা জানানো হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তবে এসব বৈঠকের সময়সূচি এখনও নির্ধারণ হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি, ভারতের এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন হয়ে বিদ্যুৎ প্রথমে ভারতে প্রবেশ করে। পরে ভারতের বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে তা বাংলাদেশে আসে। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য নেপালকে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট পরিশোধ করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

নেপাল ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরে। পাশাপাশি ভ্যাপার নিগম লিমিটেডের সঙ্গে মধ্যমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটি। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের লেনদেন হয় ভারতীয় রুপিতে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেন হয় মার্কিন ডলারে। ভারত প্রথম ২০২১ সালের অক্টোবরে নেপাল থেকে ৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন দেয়। এরপর ধাপে ধাপে ভারতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নিশ্চিত করে নেপাল। নেপাল চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে ২ হাজার ১০০ কোটি রুপি আয় করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৩১০ কোটি রুপি। 

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য