চলতি বছরের মার্চে দেশজুড়ে হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরও থামছে না শিশুমৃত্যু। প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর আসছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই বহু বছর নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগটি আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
হাম ও এর উপসর্গে দেশে এখন পর্যন্ত ৬৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সংক্রমণ শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জনের মধ্যে। এ সময় পরীক্ষায় ১০ হাজার ৩২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটার মধ্যে এসব মৃত্যু ঘটে। এ নিয়ে উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫২।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১ হাজার ৫২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
‘সরকার কার্যত ব্যর্থ’
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের বিস্তার শুরু হলেও শুরুতে বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ঘাটতি ছিল না। সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। যারা সমালোচনা করছেন, তারা বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি উপলব্ধি করছেন না।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বে-নজীর আহমেদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে অবহেলা ও বিলম্বই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম অবহেলা ছিল। সেই অবহেলার ফলেই আজকের এই প্রাদুর্ভাব। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু আমাদের জন্য অকল্পনীয়। বর্তমান সরকারের সুযোগ ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার, কিন্তু সেই জায়গায়ও তারা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।’


