Homeজাতীয়বেনজীরকে ফেরানো কতটা সম্ভব?

বেনজীরকে ফেরানো কতটা সম্ভব?

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সরকার বলছে, তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার হলেও প্রত্যর্পণের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, দুদকের মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর থাকায় বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি সুযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বন্দি স্থানান্তর এবং অপরাধী প্রত্যর্পণসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় এক দেশে অপরাধ করে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাকে ফেরত চাওয়া যায়।

তবে চুক্তি থাকলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তর করা হয় না। প্রত্যর্পণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত অভিযোগ, নথিপত্র এবং আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশকে প্রথমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এরপর ইউএইর আদালত ও প্রশাসন বিষয়টি পরীক্ষা করবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযোগকৃত অপরাধ দুই দেশেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও জালিয়াতি বাংলাদেশ এবং ইউএই উভয় দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

তবে বেনজীর আহমেদ চাইলে ইউএইর আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো আপত্তি না থাকলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণ সম্ভব। স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। আর আইনি লড়াই শুরু হলে তা দুই বছর বা তারও বেশি সময় গড়াতে পারে।

বাংলাদেশ এর আগেও ইন্টারপোলের সহায়তায় কয়েকজন পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফেরাতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। তবে পি কে হালদারের মতো কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে চলমান মামলার কারণে প্রত্যর্পণ দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাগুলোর ভিত্তিতেই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এখন সবকিছু নির্ভর করছে দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।

২০২৪ সালের মে মাসে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করছিলেন বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো নতুন মোড় নিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারই শেষ নয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য