Homeঅপরাধএআই ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারলেন না বেনজীর

এআই ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারলেন না বেনজীর

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যস্ত ট্রানজিট জোন। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যেই ছিলেন এক বাংলাদেশি। লন্ডন থেকে যাত্রা করে তিনি যাচ্ছিলেন এশিয়ার আরেকটি দেশে। পরিচিত মুখ আড়াল করার চেষ্টা ছিল, ছিল নিরবে পথ চলার পরিকল্পনাও। কিন্তু প্রযুক্তির নজর এড়াতে পারেননি তিনি। বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা তাঁর মুখমণ্ডল শনাক্ত করে। মুহূর্তের মধ্যেই আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডারে মিল পাওয়া যায়। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। কিছু সময়ের মধ্যেই দুবাই পুলিশের হেফাজতে চলে যান এক সময়ের ক্ষমতাধর এই পুলিশ কর্মকর্তা।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও সমালোচিত বেনজীর আহমেদকে গত শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করে দেশটির পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জারি হওয়া পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের সহযোগিতার ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআইভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। পরে সেই তথ্য ইন্টারপোলের ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা সতর্কতাসংকেত সামনে আসে। এরপরই দুবাই পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট ব্যবস্থা নেয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ট্রানজিটে অবস্থানকালে অন্য যাত্রীদের মতোই নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার আওতায় আসেন বেনজীর। এ সময় তাঁর মুখমণ্ডল স্ক্যান করা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডারে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে প্রথমে আটক এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীরের গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। একই সঙ্গে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালী হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি ছিল। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই আমিরাত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করবে ইন্টারপোল সংক্রান্ত জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি)।

জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে আইনের আওতায় আনতে ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এনসিবি ইন্টারপোলে আবেদন করে। গত বছরের ১১ এপ্রিল সেই আবেদন পাঠানো হলে পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে কমিশনের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতেই দুবাইয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুদকের আইনজীবীদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আইনি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য