Homeপ্রবাসের খবরপ্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কল্যাণই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: শামা ওবায়েদ

প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কল্যাণই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: শামা ওবায়েদ

দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধারা জাতির গর্ব। তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রস্তাবটির বিষয় ছিল-দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান অব্যাহত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা।

গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় ইস্যু উত্থাপনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। প্রবাসীদের সমস্যা কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় বিষয়।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীদের শুধু ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স কাজে লাগানো হয়েছে; কিন্তু তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে ২ হাজার ১৭ জন কর্মীকে সৌদি আরবে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।আমরা সবসময় প্রবাসীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করি।

অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে। এটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। লেবানন-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তায় দূতাবাসগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলেও জানান।

দূতাবাসগুলোর কনস্যুলার ও পাসপোর্ট সেবা প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখা গেছে, অনেক মিশনে জনবল ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ই-পাসপোর্ট, অনলাইন আবেদন, কিউ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকায় কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের ডিটেনশন সেন্টারে থাকা ৩৫০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশিকে এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ইউরোপগামী অবৈধ অভিবাসন ও দালাল চক্রের তৎপরতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমধ্যসাগর বা লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং প্রাণ হারাচ্ছেন। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকার লিবিয়া, ইতালি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বরকতুল্লাহ বুলুর বক্তব্যের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশন রয়েছে। কোনো মিশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। প্রবাসীদের কল্যাণে এরই মধ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী। সবার সহযোগিতায় আরও ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব হবে।’

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য