দীর্ঘ দুই দশক পর বড় প্রত্যাশা জাগিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৃষ্টি ছিল নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের দিকে। সেই প্রত্যাশা পূরণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেছেন বড় আকারের বাজেট। বিভিন্ন মহলকে সন্তুষ্ট করতে করনীতিতে দেওয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্য ছাড়। তবে একই সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ও রয়ে গেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে অনেক বেশি মাত্রায়। তবুও বড় ঘাটতি থেকে যাবে। সেই ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছেন বৈদেশিক ঋণের ওপর। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বিদেশি ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আর এই ঋণ পাওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংস্কার কার্যক্রমের ওপর।
ব্যাংক খাত এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে। বেসরকারি বিনিয়োগ আরও কমেছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তাও রয়েছে। এমন বাস্তবতায় অর্থমন্ত্রী অনেক বড় স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হয়।
আগামী পাঁচ বছরে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সেই লক্ষ্যও তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সেই লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্বপ্নের ঘোষণা আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের কার্যকর কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। তার ওপর বিশ্ব অর্থনীতিও এখন নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
দেশের মানুষ টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বাজেট বড় না ছোট, সাধারণ মানুষের কাছে সেটিই মুখ্য নয়। তাঁদের চাওয়া এখন স্বস্তি। নতুন সরকারের কাছে সেই স্বস্তির প্রত্যাশাই সবচেয়ে বড়। মানুষ আশা করছে, সরকার শুধু আশার কথা শোনাবে না, বাস্তবে কাজও করবে।
রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছিলেন, ‘এবার ফিরাও মোরে, লয়ে যাও সংসারের তীরে/ হে কল্পনে, রঙ্গময়ী! দুলায়ো না সমীরে সমীরে/ তরঙ্গে তরঙ্গে আর, ভুলায়ো না মোহিনী মায়ায়।’ অর্থাৎ দেশের মানুষ এখন আর শুধু কথার মোহে থাকতে চায় না।
১০ অগ্রাধিকার
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তার শিরোনাম দিয়েছেন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। আগের অনেক বাজেট বক্তৃতার তুলনায় এবারের বক্তব্য ছিল বেশি গোছানো এবং সরাসরি। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুটি লক্ষ্যই বেশ উচ্চাভিলাষী।
এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থমন্ত্রী ১০টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির বিকাশ, প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
টাকা কোথা থেকে আসবে, কোথায় যাবে
আগামী অর্থবছরে অনুদানসহ সরকারের মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আসবে রাজস্ব খাত থেকে। মোট আয়ের প্রায় ৮৬ দশমিক ১ শতাংশই নির্ভর করবে এনবিআরের কর রাজস্বের ওপর, আর করবহির্ভূত উৎস থেকে আসবে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে বাজেটের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর।
অন্যদিকে ব্যয়ের হিসাব বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বা চলতি ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় হবে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৬৫ টাকা যাবে পরিচালন ব্যয়ে এবং ৩৪ টাকা যাবে উন্নয়ন খাতে।
পরিচালন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে ঋণের সুদ। আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। সহজভাবে বললে, সরকার প্রতি ১০০ টাকা খরচ করলেও নিজস্ব আয় হবে ৭৪ টাকা। বাকি প্রায় ২৬ টাকা সংগ্রহ করতে হবে ঋণের মাধ্যমে।
এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ আসবে বিদেশি ঋণ থেকে এবং ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। আগামী অর্থবছরে সরকার নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ নিতে চায়। একই সঙ্গে দেশের ভেতর থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে ব্যাংক খাত থেকে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৮৮ শতাংশই আসবে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকের বাইরের উৎস থেকে, যার মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের অবদান থাকবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী সরকার বিদেশি ঋণ পাচ্ছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ নতুন অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বৈদেশিক ঋণ নিশ্চিত করতে হবে।
তাই বাজেটের আকার যত বড়ই হোক না কেন, এর সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে দুটি বিষয়ে—নির্ধারিত রাজস্ব কতটা আদায় করা যায় এবং সেই অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করা যায়। যদি প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হয় কিংবা বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ ব্যাহত হয়, তাহলে চাপ গিয়ে পড়বে ব্যাংক খাতের ওপর। সেক্ষেত্রে সরকারকে আরও বেশি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হবে, বিনিয়োগ কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে উঠবে।
রাজস্ব কার্যক্রম
প্রতিবছরই বলা হয় করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে করদাতার সংখ্যা খুব বেশি বাড়ে না। এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী একদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করের হার কমিয়েছেন, অন্যদিকে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে অনেকেই কর ছাড়ের সুবিধা পেয়েছেন, তবে নতুন করে কর ব্যবস্থার আওতায় আসছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছোট উদ্যোক্তারা।
এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রে স্বস্তি দেওয়া। সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি রোডম্যাপও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হবে। নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি কিছুটা স্বস্তি পাবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আগামী পাঁচ বছরের আয়কর কাঠামো আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে সুবিধা পাবে।
বাজেটে কর ছাড়, প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনা
চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো। তবে বাস্তবে কর কমানোর সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই কর কমলেও বাজারদর অপরিবর্তিত থাকে এবং সুবিধার বড় অংশ ব্যবসায়ীদের কাছেই থেকে যায়।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সরকার ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য করসুবিধা ঘোষণা করেছে। ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়েও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার ট্যাক্স শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ইউটিউবার, ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা, গ্রাফিক ডিজাইনার ও স্বাধীন পেশাজীবীরা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। তরুণদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দেওয়া হয়েছে বড় ধরনের প্রণোদনা। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি খাতে। এই খাতের আমদানি ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইভি চার্জার আমদানির ক্ষেত্রেও কর কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য করহার বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর লক্ষ্য জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
যা আলোচনায় থাকবে
ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ করব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও এসেছে এবারের বাজেটে। নতুন ব্যবস্থায় ছোট ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করলেই চলবে। তাঁদের আর জটিল ভ্যাট হিসাব সংরক্ষণ কিংবা রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হবে না। ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সহজেই কর পরিশোধ করা যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমার আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে করের আওতা বাড়াতে খুচরা বিক্রেতাদের কর ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পণ্য সরবরাহের সময় ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার টাকায় দিতে হবে ২ টাকা কর। হার কম হলেও এর মাধ্যমে খুচরা ব্যবসাকে কর নেটওয়ার্কের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর বা বিন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্যও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, ইউটিলিটি সেবা এবং সম্পত্তির তথ্যকে একটি সমন্বিত ডেটাবেজে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর ফাঁকি কমানো সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এটাই কি সবচেয়ে দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা?
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হয়। পরে বেলা পৌনে তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অর্থ বিলে সই করেন। এরপর বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর প্রথম বাজেট উপস্থাপনায় সময় নিয়েছেন প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা। মাঝখানে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতি ছিল। সব মিলিয়ে তাঁর বাজেট বক্তৃতা শেষ হয় রাত ৮টা ১০ মিনিটে। বিরতিসহ মোট সময় দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সম্ভবত দীর্ঘতম বাজেট বক্তৃতা।
তবে বিশ্ব ইতিহাসে দীর্ঘতম বিরতিহীন বাজেট বক্তৃতার রেকর্ড ব্রিটেনের সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইউয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের। ১৮৫৩ সালের ১৮ এপ্রিল তাঁর বাজেট বক্তৃতা টানা ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। যদিও তার আগের বছর আরেক ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী বেঞ্জামিন ডিজরেইলি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বক্তব্য দিয়েছিলেন, তবে মাঝপথে বিরতি নিয়েছিলেন। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও এবার ইতিহাসের আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারেন।
দেশের অসংখ্য মানুষ ধৈর্য ধরে অর্থমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তৃতা শুনেছেন। একইভাবে তাঁরা গত কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছেন অর্থনৈতিক স্বস্তির জন্য। বাজেটে অর্থমন্ত্রী আশার অনেক কথা বলেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ করতে পারবেন।


