যুক্তরাজ্যে খালি প্লাস্টিকের বোতল ও পানীয়ের ক্যান ফেরত দিলেই মিলবে নগদ অর্থ।পরিবেশ দূষণ কমানো এবং পুনর্ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষে ২০২৭ সালের ১লা অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে নতুন ডিপোজিট রিটার্ন স্কিম DRS।
নতুন এই বাবস্থার আওতায় প্ল্যাস্টিকের বোতল কিংবা ধাতব ক্যানজাত পানীয় কিনলে অতিরিক্ত ২০ পেন্স দিতে হবে,পরে খালি ক্যান নির্ধারিত সংগ্রহ কেন্দ্রে ফেরত দিলেই সেই ২০ পেন্স সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়া যাবে।সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে টাকা ফেরত পেতে কোন রসিদ বা কেনার প্রমান দেখাতে হবে না।ফলে নিজের ব্যবহৃত বোতল ও ক্যানের পাশাপাশি রাস্তায় পড়ে থাকা বোতল বা ক্যান সংগ্রহ করে ও জমা দেওয়া যাবে।যদি সেগুলো ভাল অবস্থায় থাকে।
জানা যায় টেস্কো ,আযদা, মরিসন্স,সেইন্সবারি সহ বড় বড় সুপার মার্কেটের পাশাপাশি বিভিন্ন মুদি দোকান কনভেনিয়েন্স ষ্টোর এবং খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে খালি বোতল সংগ্রহ পয়েন্ট স্থাপন করা হবে।
অনেক জায়গা আধুনিক রিভার্স ভেন্টিং ম্যাশিন বসান হবে যেখানে বোতল বা ক্যান ঢুকালে স্বয়ংক্রিয় ভাবে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।গ্রাহকরা নগদ অর্থ ভাউচার কিংবা ব্যাংক কার্ডের মাধমে টাকা ফেরত নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি বোতল ও ক্যানের জন্য অভিন্ন ২০ পেন্স ডিপজিট নির্ধারণ করায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উৎপাদক এবং খুচরা বিক্রেতাদের জন্য প্রকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকরাও সহজে বুঝতে পারবে কোন কোন পণ্যের জন্য কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
বর্তমান যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ১৪ বিলিওন প্লাস্টিকের পানীয় বোতল এবং ৯ বিলিওন ক্যান ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে ছোট প্লাস্টিকের বোতল ও কোমল পানীয়র ক্যান মোট আবর্জনার ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী ।সরকার আশা করছে নতুন এই স্কিম চালু হলে রাস্তাঘাটে আবর্জনা কমে যাবে এবং পুনর্ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে ।
৫০টির বেশি দেশে ইতিমধ্যে একই ধরনের ডিপজিট রিটার্ন স্কিম চালু রয়েছে। জার্মান,সুইডেন এবং আয়ারল্যান্ডের মত দেশগুলতে এই ব্যবস্থা সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং পুনর্ব্যবহারের হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য নিজস্ব স্কিম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ইংল্যান্ড স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ১৫০ মিলিলিটার থেকে ৩ লিটার পর্যন্ত ধারন ক্ষমতা একবার ব্যাবহারযোগ্য প্লাস্টিক টিন ও অ্যালুমিনিয়াম পানীয় বোতল ও ক্যান এই স্কিমের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে ওয়েলস সরকার ও নিজস্ব একটা ডিপোজিট রিটার্ন স্কিম সিস্টেম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশের ব্যাবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালিত হবে।
সরকারের মতে এই উদ্যোগ শুধু পুনরায় ব্যাবহারের উপযোগী করবে না বরং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, রাস্তাঘাটে আবর্জনা কমাবে এবং আগামী বছরগুলোতে পুনর্ব্যবহারের খাতে বড় বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কর্মকর্তারা আশা করছে্ন এই সহজ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ পরিবেশ রক্ষায় আর বেশি উৎসাহিত হবে এবং ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া থেকে ধীরে ধীরে সরে আসবে।

