Homeসব নিউজকামালকে দিয়ে প্রত্যর্পণ শুরুর আশা বাংলাদেশের

কামালকে দিয়ে প্রত্যর্পণ শুরুর আশা বাংলাদেশের

[ad_1]

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।

সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’

প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর…’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।



[ad_2]

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য