Homeজাতীয়যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। শারীরিক অসুস্থতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ‘সবুজসংকেত’ রয়েছে।

বঙ্গভবনের একটি অতীব নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রপতি নিউরোজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এমআরআইসহ একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন। চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আজ, কাল, পরশু কিংবা চলতি জুলাই মাসের যেকোনো দিন পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দিতে পারেন।

সরকারের সবুজসংকেত ও তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা

জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদায়ের বিষয়টি বেশ সহজভাবে গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সরকারপ্রধান তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করাই স্বাভাবিক এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একাংশের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বঙ্গভবনের সঙ্গে আলাদা কোনো ব্যক্তিগত সখ্য তৈরি হয়নি, বরং তিনি কেবল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাই পালন করছিলেন।

সংবিধান যা বলে: সংকট দেখছেন না শাহদীন মালিক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে দেশে কোনো ধরনের আইনি বা সাংবিধানিক শূন্যতা কিংবা সংকট তৈরি হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দেওয়ার কথা সংবিধানে বলা রয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করার পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সফলভাবে সামলেছিলেন। এবারও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন এবং সংবিধানের নির্দেশনানুসারে জাতীয় সংসদ সদস্যরা ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির হাল ধরবেন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা আইন মেনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

রাজনীতি ও অস্থিরতার উত্তাল প্রেক্ষাপট

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। একসময় তিনি বিচারক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্গটের পর ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা’ রক্ষার স্বার্থে বঙ্গভবনে থেকে যান সাহাবুদ্দিন। সে সময় বিক্ষোভকারীরা বঙ্গভবন ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগের তুমুল দাবি তুললেও, দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে বিএনপি তাঁর পদত্যাগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

পরবর্তীতে সংসদ বিলুপ্ত করা, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ পড়ানো এবং রাজনৈতিক অধ্যাদেশগুলোতে সই করার মতো আইনি কাজগুলো তাঁর হাত দিয়েই সম্পন্ন হয়।

পাবনা থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদ

১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলি ট্যাঙ্ক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ও জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হন।

১৯৮২ সালে বিসিএস বিচার ক্যাডারে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন এবং ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা সাবেক যুগ্ম সচিব। একমাত্র পুত্র আরশাদ আদনান এবং যমজ নাতি তাহসিন ও তাহমিদকে নিয়ে তাঁর পরিবার। রাজনীতির জটিল ঘূর্ণাবর্ত পার করে এখন এক দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও বঙ্গভবনের অধ্যায় শেষের দ্বারে দাঁড়িয়ে এই রাষ্ট্রপ্রধান।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য