Homeখেলাবিশ্বকাপ উন্মাদনায় বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বাংলাদেশ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব শহরেই এখন উৎসবের আমেজ। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের মহারণ দেখার উচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে নাগরিক জীবন। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রায় সবাই পরে আছেন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে আলবিসেলেস্তেদের পতাকা এবং কেউ কেউ পতাকায় ঢেকেছেন পুরো শরীর। গোধূলি আলো শেষে সন্ধ্যা নেমে আসতেই সমর্থকরা একাট্টা হন একসঙ্গে খেলা দেখতে ও উৎসবের রঙে মাখামাখি করতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবুজ-শ্যামল এই বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার কোনো কমতি নেই লাল-সবুজের দেশে।

বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সবচেয়ে উন্মাদনাপূর্ণ সমর্থকদের বড় অংশের বসবাস এ দেশে। হাজার হাজার মাইল দূরে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আসরের লড়াই শুরুর আগেই এবারও বাংলাদেশ সেজেছিল চিরচেনা রূপে। গ্রামগঞ্জ, শহর, বটতলী, অলিগলি, মাঠঘাট ও নদীবন্দরে উড়েছে প্রিয় দলের পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে কে কার চেয়ে বড় বা লম্বা পতাকা টানাবেন কিংবা কার বাড়ি প্রিয় দলের পতাকায় শোভিত করবেন, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলেছে। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত বাংলাদেশে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়, যখন মানুষের চারপাশ ভরে ওঠে অন্য দেশের পতাকায়।

বড় পর্দায় খেলা দেখা ও সমর্থকদের চিরচেনা রূপ

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামার দিন ছিল গতকাল। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা লড়াই শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফাইনালে বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য সমর্থকরা নানা আয়োজন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও মহসীন হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ ও বটতলা, বনানী মাঠ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর স্টেডিয়াম, গুলশান আড়ংয়ের পার্কিং, ঢাকা সিটি ক্লাব মাঠ এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও জেলায় বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয়। ব্রাজিল বিদায় নেওয়ায় উন্মাদনা কিছুটা কমলেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠায় তা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফি জয়ের আশায় ছিলেন, যাতে জিতলেই আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে চার তারকা যুক্ত করে পরা যায়। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকরা মেসিদের পরাজয় চেয়ে স্পেনকে সমর্থন জোগান।

ফাইনাল উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয় আর্জেন্টিনার পতাকা ও কাতার বিশ্বকাপজয়ী আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসির ব্যানার। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সমর্থকদের গায়ে ছিল আকাশি-সাদার জার্সি। ফাইনালকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন জমজমাট ছিল ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ফিফা এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নজর কেড়েছিল। নিজেদের দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশের মানুষদের কাছ থেকে এমন অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে অভিভূত হয়েছিল লাতিন দেশটি। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতি এই ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল আবেগ ও এর অন্ধকার দিক

ভৌগোলিক বা রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলেও দেশটির প্রতি বাংলাদেশিদের টান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপ এলেই এই সমর্থন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে অনেক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। চলতি বছর বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, যা জাতীয় সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে।

তবে এই উন্মাদনার মধ্যেও একটি অন্ধকার দিক রয়েছে। কখনো কখনো এই ফুটবল আবেগ সহিংসতায় রূপ নেয়। এবারও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের তর্ক-বিতর্কের জেরে সহিংসতায় দেশে অন্তত ১২ জন মারা গেছেন, যা ২০২২ সালের কাতার আসরে ছিল ২৩ জন। এমন সহিংসতা ও প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য