- ইরান বলছে, সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে
- ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা
জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে আরো ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর মধ্যে জর্দানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। অন্য চার মার্কিন সেনা আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত মার্চের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হলো।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, জর্দানে ইরান ও তার মিত্র বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় গত ১৭ জুলাই দুজন মার্কিন সেনা নিহত হন, আরো একজন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। আহত অন্য চার মার্কিন সেনাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামান্য আঘাত পাওয়া আরো কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা জর্দানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা করেছে। তবে এ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কিংবা সেন্টকম কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা আরো বড় ধরনের জবাব দেবে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দুটি সুস্পষ্ট টার্গেট নিয়ে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি দখলের কোনো পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের রয়েছে, এমনটা ভাবছেন না বিশেষজ্ঞরাও।ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু কোনো হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতে চাচ্ছে না, বরং তারা সুপরিকল্পিতভাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালিতে দেশটির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দিতে কাজ করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য তাঁরা এই যুদ্ধকে দায়ী করছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, সিএসআইএস এবং অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের পরিণতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানকে সম্পূর্ণ ‘দখল’ বা ‘নিয়ন্ত্রণ’ করা কার্যত অসম্ভব। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা, সিআইএ বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংকগুলোর মতে, ইরানের মতো ৯ কোটি জনসংখ্যার একটি বিশাল দেশ সম্পূর্ণ দখল ও শান্ত রাখতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ লাখ সেনার প্রয়োজন। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনারা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা ইরাক বা ভিয়েতনামের চেয়েও কয়েক গুণ শক্তিশালী ও আধুনিক গেরিলা প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
ইরান বলছে যে সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে
ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ করছেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরানি কারিগরি আলোচক দলের প্রধান কাজেম গরিবাবাদি বলছেন, ‘কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং সমঝোতা স্মারকটি পুরোপুরি স্থগিত করে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি; আমরা আর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছি না।’ অন্যদিকে আইআরজিসি প্রধান কমান্ডারের মুখপাত্র হামিদ রেজা মোগাদ্দামফার বলেছেন, সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক উপায়ে তেহরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর চাপ প্রয়োগের পরিণতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোতেও জ্বালানি ও অর্থনীতি খাতে ছড়িয়ে পড়বে।
ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান দর অনুযায়ী (১ ডলার সমান ১২৩.১২ টাকা) এ পুরস্কার প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান। ইরানপন্থী সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে তাঁকে পুরস্কার হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হবে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর, আল জাজিরা, মডার্ন ডিপ্লোমেসি।


