Homeঅর্থনীতিবাংলাদেশের আরও ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

ইউনিসেফের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের আরও ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় বাংলাদেশে নতুন করে আরও অন্তত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা ওলটপালট করে দিয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি দেশের সীমিত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এটি অনেককে নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ১৬৭টি দেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে আসার কারণে বিশ্বজুড়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বাহ্যিক ধাক্কার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই সংকটের তীব্রতা এখানে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাবে দেশীয় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো। এই অঞ্চলে চলতি বছরের শেষ দিকে অতিরিক্ত দুই কোটি ৩৪ লাখ শিশু তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরের দেশের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা আজ এই সংঘাতের মাশুল গুনছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার ব্যয় মেটাতে পারছে না। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি তাদের পুরো জীবনের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইউনিসেফ বাংলাদেশসহ বিশ্বনেতাদের প্রতি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা বাড়ানো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশ ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করে সেই অর্থ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে। এতে লাখ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য