রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেনাবেচার সময় ছোট মূল্যমানের পোড়া নোটের দাপট আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জাল বা ছেঁড়া না হওয়া সত্ত্বেও সামান্য পুড়ে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা এসব টাকা নিতে দ্বিধায় পড়ছেন, যা একদিকে যেমন লেনদেনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশের জাতীয় সম্পদেরও অপচয় ঘটাচ্ছে। সরেজমিন তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের কথায় বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর কারণ—ইয়াবা সেবনের কাজে কাগজের এসব নোট ব্যবহার করায় আগুনে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে টাকা।
মাদকসেবীদের তথ্যমতে, নতুন ও শক্ত নোট ভাঁজ করে রোল বানিয়ে ইয়াবা সেবন করা সহজ হওয়ায় তারা ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট বেশি ব্যবহার করছেন। টান দেওয়ার সময় আগুনে নোটের একাংশ পুড়ে গেলেও পরে তা কৌশলে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ না বুঝে এসব টাকা নিয়ে পরবর্তীতে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নোট পুড়ে নষ্ট হলে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারকে বিপুল অর্থ খরচ করে নতুন নোট ছাপাতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর নতুন টাকা ছাপাতেই সরকারের গড়ে ৬০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়, যা পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচসহ কয়েক হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কাগুজে নোট বিকৃত বা নষ্ট করা দণ্ডবিধির ৩২৮ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। মাদক সেবন ও রাষ্ট্রীয় নোট নষ্ট করা দুটিই আইনত দণ্ডনীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, পোড়া নোটের অবশিষ্ট অংশ গ্রহণযোগ্য থাকলে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তা পরিবর্তন করে দিতে বাধ্য। কোনো ব্যাংক অস্বীকৃতি জানালে সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ইয়াবাসেবী কর্তৃক টাকা পোড়ানোর এই ঘটনাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছানো এবং তাদের ৮০ শতাংশই কিশোর-তরুণ হওয়ার এই সামাজিক সংকটের সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে এই অপচয় ও অরাজকতা থামানো সম্ভব নয়।


