ঢাকা: পেশাগত দায়িত্ব পালন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গিয়ে সারা দেশে ক্রমেই বাড়ছে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মাঠপর্যায়ে অভিযানে গিয়ে আহত হওয়া তো বটেই, পিটিয়ে হত্যার শিকারও হতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১৯ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক হামলায় অন্তত ৯৬২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে অভিযানে গিয়ে আহত হয়েছেন ৩৬১ জন পুলিশ সদস্য, অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫১ জন। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলায় আহত হন ৬০১ জন সদস্য। মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যরা। চলতি বছরের সাত মাসে ডিএমপির ৪২ জন এবং গত বছর ৮৯ জন সদস্য আহত হন।
পুলিশ কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ‘মব সন্ত্রাস’ বা দলবদ্ধভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকেই এ ধরনের হামলার ঘটনা বেশি ঘটছে। সম্প্রতি রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আমিনবাজারে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা এবং চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে ককটেল ও গুলিতে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার ঘটনা মাঠপর্যায়ের বাহিনীর সার্বিক মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বাহিনীর মনোবল ফেরাতে ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো সংস্কার উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইনের রক্ষক পুলিশই যদি নিয়মিত হামলার মুখোমুখি হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পুলিশের ওপর হামলা রোধে এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


