Homeজাতীয়টাকা দিয়েও মিলছে না সার

টাকা দিয়েও মিলছে না সার

চলতি আমন মৌসুমের মুখেই সার সংকটে পড়েছে কুড়িগ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা। চাহিদামতো সার না পাওয়া, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেজিপ্রতি বাড়তি দাম আদায় এবং অল্প পরিমাণের বদলে জোরপূর্বক পুরো বস্তা কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। ফলে জেলার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির আমন চাষ নিয়ে চরম শঙ্কা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সার নিয়ে অনিয়ম ও ভোগান্তির চরম রূপ দেখা যায় গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে। সেখানে মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা (প্রায় ১১,২৫০ কেজি) সার ছিনিয়ে নেন। ঘটনার তদন্তে গঠিত উপজেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের কমিটি ডিলারের বিক্রয় রেজিস্টার ও ভাউচারে ব্যাপক অসংগতি এবং অকৃষকদের মাঝে সার বিতরণের সত্যতা পেয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ১২২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত সরকারি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও খোলা বাজারে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইউরিয়া সারে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা বেশি নেওয়ার পাশাপাশি ২৭ টাকার টিএসপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ২১ টাকার ডিএপি ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকরা ১০ কেজি সার কিনতে গেলেও ডিলাররা পুরো ৫০ কেজির বস্তা নিতে বাধ্য করছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সংকট এড়াতে ২৫ আগস্ট থেকেই সেপ্টেম্বর মাসের সার উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছোট পরিমানে সার বিক্রির ব্যবস্থা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি তদারকি ও সারের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই ভোগান্তি কমবে না।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য