জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উন্মুক্ত দরপতন ছাড়াই ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুটি কার্গো করে গ্যাস কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ বিধি অনুসরণ করা হবে।
বৈঠকে কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। একই বৈঠকে ঢাকার বিমানবন্দর ও কমলাপুর রেলস্টেশনে বহুমুখী পরিবহন কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৮ টাকা। এর পুরো অর্থ সংস্থান করা হবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। সরকারি অর্থায়নে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনক্রমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়।


