Homeঅর্থনীতিএলএনজি কার্গো না আসায় ফের গ্যাস সংকট

এলএনজি কার্গো না আসায় ফের গ্যাস সংকট

কয়েকদিনের ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির পর আবারও মারাত্মক গ্যাস সংকটে পড়েছে দেশ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন এলএনজি কার্গো সময়মতো না পৌঁছানো এবং বিদ্যমান মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

আমদানি করা গ্যাস না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১৮ কোটি ঘনফুটে। সরবরাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতের সার্বিক উৎপাদন ও দৈনন্দিন প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক খোলা বা স্পট মার্কেট থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কয়েকটি এলএনজি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি আগস্ট মাসেই অন্তত চারটি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি কার্গোও বন্দরে এসে পৌঁছায়নি।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ মেরামত শেষে গত শনিবার এটি ফের চালুর জন্য প্রস্তুত হলেও পর্যাপ্ত আমদানিকৃত গ্যাস না থাকায় শুধু পুরোনো অবশিষ্টাংশ থেকে সীমিত সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে কমতে বুধবার বিকেলে তা শূন্যে নেমে আসে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের সার্বিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সাধারণ সময়ে সংকট সামাল দিতে পেট্রোবাংলা দৈনিক অন্তত ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, যার মধ্যে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

কিন্তু টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি খাতের সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত মঙ্গলবার যেখানে এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছিল, আজ তা একলাফে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ কোটি ঘনফুটে।

এলএনজি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, অবকাঠামোগতভাবে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও কার্গোর অভাবে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছাতে পারে, যা সামিটের টার্মিনালে খালাস করা হবে। অন্যদিকে, বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেটের জন্য নির্ধারিত কার্গোটি আগামী ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন দেশকে এ সীমিত সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই তীব্র সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য