সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার মডেল সুমাইয়া সাঈদ (২৫) এবং তাঁর সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে মেয়ের অনৈতিক কাজ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও বাধা না দিয়ে আয়ের ভাগ নেওয়ার অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট সাইবার নজরদারি করলে সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির প্রচারণা নজরে আসে। পরে তদন্তে উঠে আসে, বিকাশ, নগদ ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করা হতো। একইভাবে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হতো ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন হাজার ৫০০ টাকা।

ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ আগস্ট রাতে ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ডিবি অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর কথিত প্রধান সহযোগী ও প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীর সংঘবদ্ধ এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশের দেওয়া ভাষ্য মতে, সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদ মেয়ের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু তিনি মেয়ের এই অনৈতিক কাজে বাধা না দিয়ে এসব কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থের ভাগ নিতেন।
এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার, বিজ্ঞাপন, বিক্রি কিংবা এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার, বিক্রি কিংবা অনলাইনে ছড়িয়ে না দিতে অনুরোধ করছি। একইভাবে এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানাই।’
সুমাইয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ :
পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার এবং অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে রমনা থানার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সুমাইয়াকে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৩ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আসামিকে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপপরিদর্শক মো. রাশেদুল ইসলাম। পরে আদালত তাঁর রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।


