Homeআইন আদালতবীমায় সীমাহীন অনিয়ম: মেয়াদ পূর্ণ হলেও ৮৮% গ্রাহকই পাননি টাকা

বীমায় সীমাহীন অনিয়ম: মেয়াদ পূর্ণ হলেও ৮৮% গ্রাহকই পাননি টাকা

মঞ্জুর রহমান ২০১২ সালে একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে জীবন বীমা করেছিলেন। ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হলেও পাওনা ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা পাননি তিনি। বাবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসার খরচের জন্য আবেদন করেও কোনো অর্থ মেলেনি।

পাবনার ইউসুফ আলী মিয়া ২০২১ সালে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পাওনা টাকা পাননি। এলাকা থেকে বীমা অফিস উঠে যাওয়ায় এখন তাঁকে ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে।

বীমা খাতের গ্রাহকদের এমন হাহাকার দীর্ঘদিনের। নির্ধারিত মেয়াদ শেষেও মিলছে না টাকা। সাধারণ বীমা খাতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে জমা হওয়া দাবির মাত্র ১১.৩০ শতাংশ পরিশোধ করেছে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ ৮৮.৭০ শতাংশ দাবিই অনিষ্পন্ন রয়েছে। দুই খাত মিলিয়ে একই সময়ে মোট সাত হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার বীমা দাবি আটকে আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, আস্থার সংকটের কারণে গ্রাহক কমছে। প্রিমিয়ামের অর্থ কার্যকরভাবে বিনিয়োগ না করায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা কমছে।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ সময়ে সাধারণ বীমা খাতে উত্থাপিত তিন হাজার ৭৯৮ কোটি টাকার দাবির মধ্যে মাত্র ৪২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অনিষ্পন্ন রয়েছে তিন হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা।

জীবন বীমা খাতে একই সময়ে ছয় হাজার ৮১৩ কোটি টাকার দাবির মধ্যে দুই হাজার ৪০৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। চার হাজার ৪১০ কোটি টাকার দাবি আটকে আছে, যা মোট দাবির ৬৪.৭৩ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই খাত মিলিয়ে মোট ১০ হাজার ৬১১ কোটি টাকার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট দাবির ৭৩.৩১ শতাংশ অর্থই গ্রাহকরা পাননি। ২০২৫ সাল শেষে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৯১২ কোটি টাকা। তিন মাস পরও পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানু‌ষের সঞ্চয় ক্ষমতা কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বীমার নতুন পলিসি ও প্রিমিয়াম আয়ে। ডলার সংকট ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ বীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহেও ধীরগতি এসেছে।

বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যাংকে রাখা এফডিআরের একটি বড় অংশ তারল্য সংকটে আটকে গেছে। ফলে সম্পদ থাকলেও নগদ অর্থের অভাবে দাবি পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, তহবিল তছরুপ, দুর্বল বিনিয়োগ ও গড়িমসির কারণে সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদারকিতেও ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দুর্বল সাতটি কোম্পানির কাছেই বকেয়া রয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন এই খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য