রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা ভাড়া দেখার অজুহাতে একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তিন নারীকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত নগদ অর্থের একটি অংশ এবং বেশ কিছু স্বর্ণালংকার।
পুলিশ জানায়, পুরো ডাকাতির ছক কষে একই ভবনের এক গৃহবধূ। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগে সে বাসায় বিপুল পরিমাণ টাকা থাকার তথ্য সংগ্রহ করে। ডাকাতির পর সন্দেহ এড়াতে ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে যায় এবং পরে মামলার সাক্ষীও হয়।
বুধবার রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলো জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭), সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক জোড়া স্বর্ণের দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা। ডিসি তালেবুর রহমান জানান, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকায় রক্সি গলি-সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে বাসা দেখার কথা বলে পাঁচ ব্যক্তি প্রবেশ করেন। পরে তারা ফ্ল্যাটে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে বুধবার রাতে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকে আটক করে তার বাসা থেকে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই রাতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে আরও এক লাখ টাকা এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের সপ্তম তলায় বসবাসকারী গৃহবধূ জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ২০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, জেসমিন নিয়মিত ভুক্তভোগীদের বাসায় যাতায়াত করত। সেই সুবাদে সে বাসায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর পরিচিত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন সে নিজেই ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশে সহায়তা করে এবং ডাকাতি শেষে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। পরে সন্দেহ এড়াতে সে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেয়। এমনকি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষী হিসেবেও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে।
ডিসি তালেবুর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় মোট আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


