যৌতুকের টাকার দাবিতে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করার পর চলন্ত মোটরবাইক থেকে মহাসড়কে ফেলে হত্যার চেষ্টা করেছেন তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিদ্যুৎ কুমার দত্ত বেসরকারি প্রাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে গলফ ক্লাব এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার গৃহবধূর বাবা নীরদ কুমার রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামি বিদ্যুৎ কুমার দত্ত বর্তমানে ঢাকার বাইরে পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য নির্যাতন
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ শিউলি রানী রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা বিদ্যুৎ কুমারের সঙ্গে সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে শিউলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁরা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন। শিউলির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদেরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে দোষারোপ করতেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ কুমারের বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি তীব্র রূপ নেয়। বিদেশে যাওয়ার খরচের জন্য শিউলিকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেওয়া হতো।
টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার রুটি বেলার বেলন দিয়ে শিউলিকে পিটিয়ে মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। মারধরের পর তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিউলিকে মোটরবাইকে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন বিদ্যুৎ। পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে চলন্ত মোটরবাইক থেকে শিউলিকে ফেলে দিলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
কৌশলে পালালেন অভিযুক্ত শিক্ষক
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, মোটরবাইক থেকে পড়ে শিউলি অচেতন হয়ে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই সময় উপস্থিত জনতা তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ কুমারকেও আটকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। তবে হাসপাতালে আসার পর তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। শিউলির জ্ঞান ফেরার পর চিকিৎসকেরা তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে পরিবারকে খবর দেন।
শিউলির ভাই শুভ রায় অভিযোগ করেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বোনকে মারধরের পর দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


