ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজার নামাজ আজ (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, শনিবার থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানেই আজ প্রথম জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানাজার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।
জানাজার পর সোমবার রাজধানী তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।
কে ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থার প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দীর্ঘ প্রায় চার দশক তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
খোমেনি ছিলেন ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্বের মূল ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে, সেই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খামেনি।
খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার পরও তিনি এখনো জনসম্মুখে উপস্থিত হননি। তার নেতৃত্বের শুরুতেই দেশজুড়ে বড় পরিসরের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে তিনি শাহবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খামেনি দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তার শাসনামলের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ। পরে একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


