Homeঅপরাধরাজধানীতে চার শতাধিক ছিনতাইয়ের হটস্পট, সক্রিয় ১৪০০ ছিনতাইকারী

ঢাকার ভোরে আতঙ্ক
রাজধানীতে চার শতাধিক ছিনতাইয়ের হটস্পট, সক্রিয় ১৪০০ ছিনতাইকারী

কোলাহলমুক্ত নিস্তব্ধ ভোরের ঢাকাকে ভয়ংকর করে তুলেছে ছিনতাইকারীর দল। ফাঁকা রাস্তা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল নজরদারির সুযোগে তারা পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনসহ দূরপাল্লার যাত্রী চলাচলের প্রধান পথগুলোতে ওত পেতে থাকছে সশস্ত্র অপরাধীরা। নির্জন স্থানে টার্গেট করা যাত্রীকে ধরে ছোঁ মেরে বা ছুরি-চাপাতি ঠেকিয়ে লুটে নেওয়া হচ্ছে সবকিছু। এমনকি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে ঘুরে বেড়ানো ছিনতাইকারীরা চলতে থাকা রিকশা বা অটোরিকশার যাত্রীদের হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

অজানা ভয় সঙ্গে নিয়েই ভোরে পথ চলছেন সাধারণ মানুষ। গত শনিবার বগুড়া থেকে স্বামীর সঙ্গে চোখের ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর হ্যাচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারান রনজিনা পারভীন (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষক। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভোরের ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই দিন ভোরে শ্যামপুর বরইতলা এলাকায় সাতক্ষীরা থেকে আসা দুই ব্যক্তির পথরোধ করার সময় সহযোগীর ছুরিকাঘাতে জনি নামে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গভীর রাত থেকেই রাজধানীতে অপরাধীদের তৎপরতা বাড়ে। তবে ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও হাসপাতাল এলাকায় এদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি থাকে, কারণ এ সময় ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত পালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৪০০ নথিভুক্ত ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরে প্রায় হাজার খানেক ভাসমান অপরাধী রয়েছে, যারা ঢাকার বাইরে থেকে এসে ঝটিকা ছিনতাই চালিয়ে আবার সটকে পড়ে। ডিএমপির তথ্যমতে, ওয়ারী বিভাগে সর্বোচ্চ ৩১৪ জন নিবন্ধিত ছিনতাইকারী সক্রিয়, এরপর তেজগাঁও ও উত্তরা বিভাগে ২৪০ জন করে এবং মতিঝিলে ১৬৮ জন সক্রিয় রয়েছে। ঢাকার ৫০টি থানা এলাকায় চিহ্নিত করা হয়েছে ৪ শতাধিক হটস্পট। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, দারুসসালাম, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম, বিমানবন্দর, তেজগাঁও, কোতোয়ালি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলানগর, আদাবর ও খিলক্ষেত এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিসংখ্যান বিচারে তেজগাঁও ও ওয়ারী বিভাগ গ্রেপ্তার ও মামলায় যেমন শীর্ষে, ছিনতাইয়ের ঘটনার দিক থেকেও তাই। বছরের পর বছর একই কায়দায় ও একই স্পটে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লুটপাটের পাশাপাশি সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ‘মিনি অপহরণ’। রাত ১০টার পর নির্জন পথ থেকে অটোরিকশায় তুলে ছুরি ঠেকিয়ে সবকিছু লুটে নেওয়ার পর যাত্রীকে চলন্ত পথেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

সামগ্রিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, শীর্ষ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও মূল পৃষ্ঠপোষকরা অধরা থাকা, জামিন সিন্ডিকেটের প্রভাব ও দুর্বল চার্জশিটের কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। অন্যদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, শিক্ষক নিহতের ঘটনার পর সব থানাকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। হটস্পটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য