Homeজাতীয়গ্রামের চাপ সামলাতে ঢাকায় লোডশেডিং, চরম ভোগান্তি

ব্যাহত শিল্প উৎপাদন
গ্রামের চাপ সামলাতে ঢাকায় লোডশেডিং, চরম ভোগান্তি

দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের তীব্রতা অব্যাহত থাকার এবার রাজধানীর বাসিন্দাদেরও একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এখন দিন ও রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। একবার লোডশেডিং শুরু হলে অন্তত এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ কিছুটা কমাতে এখন রাজধানী ঢাকাতেও সুনির্দিষ্ট নিয়মে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিগত কয়েক দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন বাসা-বাড়িতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও হাসপাতালে উৎপাদন এবং চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) উৎপাদন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। ঘাটতি মোকাবিলায় এখন দিনের বেলাতেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আদানি এবং দেশের অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে রাতের পাশাপাশি দিনেও সর্বোচ্চ পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

উৎপাদন ব্যাহত ও শিল্প খাতে বড় ধাক্কা

বিদ্যুতের এই অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিংয়ের ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পণ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন কারখানায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক দিনে তাদের সদস্যভুক্ত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানার উৎপাদন বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বয়ংক্রিয় মেশিনগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না, ফলে পোশাক উৎপাদন বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

এদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ট্রান্সফরমার পরিবর্তন না করার ক্ষোভে পিডিবির স্থানীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। গত ২০ আগস্ট সংঘটিত ওই হামলায় কার্যালয়ের কাচ, আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় এবং পিডিবির এক কর্মকর্তা আহত হন।

পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যুৎহীনতার কারণে অনেক স্থানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সময়মতো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বিভিন্ন জরুরি পরীক্ষানিরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পিএলসি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে দেশে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৩৩৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সে সময় প্রায় ২ হাজার ১১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি বা লোডশেডিং করতে হয়েছিল।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য