গ্যাস সংকটে ভোগান্তি কমছে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় কেটে যাচ্ছে সিএনজি স্টেশনে। এতে একদিকে যেমন আয় কমছে, অন্যদিকে দৈনিক জমার টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে চালকদের।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস নিতে একটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি গ্যাসও দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ১২০ টাকার গ্যাস নিয়ে আবার রাস্তায় বের হতে হচ্ছে তাদের।
রাজধানীর মগবাজারে চালক নজরুল বলেন, একটি গাড়ি নিয়ে দিনে দুইবার গ্যাস নিতে হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিবারই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দুই দফায় গ্যাস নিতে গিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে। ফলে যাত্রী পরিবহনের জন্য রাস্তায় থাকার সময় কমে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই আয়ও কমে যাচ্ছে।
চালকরা বলছেন, আগে যে সময়ে কয়েকটি ট্রিপ দিয়ে ভালো আয় করা সম্ভব হতো, এখন সেই সময়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে গ্যাসের লাইনে। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক সময় যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিন শেষে কাঙ্ক্ষিত আয় না হওয়ায় সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
চালকদের অনেকের ক্ষেত্রে প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ১২০০ টাকা জমা দিতে হয়। এর বাইরে জ্বালানি খরচ, খাবারসহ অন্যান্য ব্যয় রয়েছে। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করায় অনেক দিন এই ১২০০ টাকা জমার অর্থই তুলতে পারছেন না তারা।
আরেক চালক সুমন বলেন, গ্যাস নিতে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ১২০ টাকার গ্যাস নিয়ে আবার রাস্তায় বের হই। দিনে দুইবার গ্যাস নিতে গেলে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা শুধু স্টেশনেই চলে যায়। এরপর গাড়ি চালানোর সময় থাকে কম। দিন শেষে মালিকের জমার টাকাই অনেক সময় উঠাতে পারি না।
গ্যাস সংকটের সমাধানে দ্রুত সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান চালকরা।
সরবরাহ কমেছে গ্যাসের
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) গত ২১ আগস্টের তথ্য বলছে, এদিন সারাদেশে ২২০০.৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানি লিমিটেডের ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রে ৪৭৪.১ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রে ১৩৮.৭ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ৮টি গ্যাস ক্ষেত্রে ১১০.৩ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেভরন ও তাল্লো উৎপাদন করতে পেরেছে ৯০৬.৭ এমএমসিএফডি গ্যাস।
এছাড়া রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে দুইটি ভাসমান ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে ১১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও এখান থেকে ৫৭০.৭ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করতে পেরেছে।
সারাদেশে বর্তমান গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ এমএমসিএফডি। তবে সরবরাহ কমায় প্রায় ১৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।


