Homeসাহিত্যগৌরাঙ্গ মোহান্তর ‘করোটিমঞ্চে খেমটাওয়ালি’ প্রকাশিত

গৌরাঙ্গ মোহান্তর ‘করোটিমঞ্চে খেমটাওয়ালি’ প্রকাশিত


আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে কবি গৌরাঙ্গ মোহান্তর কবিতার বই ‘করোটিমঞ্চে খেমটাওয়ালি’। বইটি প্রকাশ করেছে, অনুপ্রাণন প্রকাশন; প্রচ্ছদ করেছেন, সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়; মূল্য, ১৮০ টাকা। গৌরাঙ্গ মোহান্ত প্রধানত কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদের মধ্যে শৈল্পিক অনুভব সঞ্চারের পথ খোঁজেন।

‘করোটিমঞ্চে খেমটাওয়ালি’ থেকে পাঁচটি কবিতা

 

মহেঞ্জোদারোর নর্তকী

মহেঞ্জোদারোর নর্তকী ডান হাত নিতম্বে রেখে যে ত্রিভুজ নির্মাণ করে তার ভেতরে রয়েছে আকাশের পদ্মগন্ধী পথ। তরুণীর অলজ্জ দৃষ্টি শরীর ও সৌন্দর্যের পুরাণকে শাশ্বত বলে ঘোষণা করে। গ্রিসীয় আর্নে কিটস সৌন্দর্য ও যৌবন-অধীরতার ভেতর চিরজীবিতার বিভাস খুঁজে পেয়েছেন। শ্যামল বঙ্গে, পশ্চিম দ্বীপে, ঝরনা-মুখর পাহাড়ে ও আটলান্টিক সৈকতে সৌন্দর্য মোনালিসা-মূল্যের সমার্থক হয়ে ওঠে; অবশ্য মোনালিসার জন্য গীয়োম আপোলিনের প্রতিকূল আকাশের নিচে প্রতিদিন সকালে একটি গর্তে ভালুকের মতো হেঁটেছেন।

মেঘের ফিলিগ্রি

আমার স্নায়বীয় মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে আছে মেঘের ফিলিগ্রি ডিজাইন। প্রকৃতপক্ষে মেঘের ভেতর দিয়ে যখন ছুটে চলি, নতুন ভাস্কর্য নির্মিত হতে থাকে। কখনো প্রবহমান বাতাস অঘন রঙের অসংখ্য বিন্দুকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কখনো সৌরমণ্ডলীয় দৈত্য সিগ্রেট খেয়ে ক্রমাগত ধোঁয়া ছড়াতে থাকে। যাকে মেঘ বলে জানি তা দূরেই দৃশ্যমান। দূরের দৃশ্যে জেগে থাকে জলপুষ্পーতার ত্রিভুজভূমির ভেতর তরঙ্গধ্বনি। বাঁশির সকরুণ রাধা নাম মেঘের দ্রুতির ভেতর আকাশে ছড়ায় নীলের গাঢ়তা। আমি আকাশের ভেতর দেখি নতুন আকাশ।

নীল বরফের নিচে

অরণ্যের বিশুষ্কতার কাছে ভূমণ্ডল আকুঞ্চিত হয়ে এলে করোটির ওপর নির্মিত মঞ্চে খেমটাওয়ালির মুদ্রা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে; তুমি নিস্পন্দ একটি শরীর নিয়ে বসে থাকো অন্ধকার তুন্দ্রাগৃহে। নীল বরফের নিচে মাইক্রোবের গুঞ্জন; প্রতিপালিত জীবাণুদের কাছে অন্ত্রের স্বাদই মুখ্য। মাইক্রোবদল মৃত্যু-সচেতন, তাদের কাছে তোমার চোখের জলের কোনো জাত্যর্থ নেই। একটি সকাল তোমাকে শূন্য করে দেবে বলে আগুন জ্বালায়, আগুনের তীব্রতার ভেতর শুষ্ক বৃক্ষ প্রথম প্রত্যক্ষ করে নির্বাণপথーনির্মলতম মুখের মায়া নিরাকার হতে থাকে; কোনো পথে ওড়ে না বিষণ্ণ ধুলো, সাগরজলে তোমার ক্রন্দন ভেসে যায়, আপাত অপসৃত আর্তনাদ ফিরে আসে বারবার।

সেরিব্রাম নিঃসৃত জল

আমাদের বাগানের জীর্ণ হুইলব্যারো এলসিনোরের অন্ধকার অপসারণে ব্যবহৃত হচ্ছেーনিকটবর্তী ভবন থেকে উদ্‌গত ড্রিল মেশিনের শব্দে প্রতিহত হচ্ছে ফর্টিনব্রাসের দামামা-সংকেত। শারদ বৃক্ষের কনসার্ট ডান্স দেখতে বেরিয়ে কচি তালপাতার বৃত্তরূপে রেটিনা সক্রিয় হয়ে ওঠেーকাঁচি দিয়ে পাতার বিভাজিত অংশগুলো কেটে তরঙ্গপ্রতীককে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। রাবার বৃক্ষের নিচে পড়ে থাকা বিবর্ণ পাতার ভেতর এঁকেবেঁকে চলে আমাদের সেরিব্রাম নিঃসৃত জল।

ড্রিপ চ্যাম্বার

ড্রিপ চ্যাম্বারের দিকে তাকিয়ে বুঝি ফোঁটা ফোঁটা লবণজলই জীবনের উৎস। অসমাপ্ত লিব্রেতো চোখে অঞ্জন প্রয়োগে সক্রিয় হলে সমস্ত নৈঃশব্দ্যের ভেতর প্রস্তুত হয়ে ওঠে আমার ল্যাপটপ; আমি অনূদিত কবিতার পঙক্তিরাজি প্রত্যক্ষ করি। অনেক শব্দ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় এবং সাথে সাথেই গুগল সমার্থশব্দের সারণি উন্মোচন করে। আমি শব্দ নির্বাচন করে কলোকেশনের ঐতিহ্য-প্রদেশে অন্তর্হিত হতে থাকি। ‘ছদিন ধরে কিছুই খাওনি। পেঁপের জুস খেয়ে নাও,’ রিনার কথায় আমার চোখে স্পন্দন জাগে। ঘরের আলোয় ল্যাপটপ নিরাকার হয়ে ওঠে আর আমার শরীরে ধ্বনিত হতে থাকে প্লেইটলেটের পতন।

 





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত