অস্ট্রেলীয় গরুর মাংস আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বন্ধুসুলভ নয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, নতুন শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই। বরং বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দুদেশের অংশীদারত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো। এগুলো মোটেও বন্ধুসুলভ কাজ নয়।
বুধবার নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার পর অস্ট্রেলীয় গরুর মাংস আমদানির কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় চারশ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার অর্থমূল্যের মাংস রফতানি করেছে দেশটি।
ট্রাম্প বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের কাছ থেকে মাংস কিনবে না নিজ দেশের খামারিদের রক্ষা করার জন্য। এতে আমি কোনও দোষ দেখছি না। তবে আমার দেশের খামারিদের জন্যও আমি একই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।
অবশ্য, মার্কিন গরুর মাংস অস্ট্রেলিয়ায় আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে সব তথ্য তুলে ধরেননি ট্রাম্প। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদি পশুতে ম্যাড কাউ ডিজিজ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলীয় গরুতে এই রোগ কখনও ধরা পড়েনি। ফলে, রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তখন থেকেই মার্কিন মুলুক থেকে তাজা মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া।
অ্যালবানিজ বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গরুর মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত অস্ট্রেলীয় রফতানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। অথচ তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন পণ্য শুল্ক ছাড়াই প্রবেশ করে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পালটা শুল্ক আরোপ করা হবে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অ্যালবানিজ। তিনি বলেছেন, পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে বরং তার জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়বে।
অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোই মার্কিন শুল্কের বোঝা বেশি বহন করবে। এই পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী হলে, চীন এরমধ্যে থেকেও লাভবান হওয়ার পন্থা বের করে ফেলতে পারবে বলে ধারণা করেছেন অ্যালবানিজ।