Homeদেশের গণমাধ্যমেধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে লিফলেট বিতরণ

ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে লিফলেট বিতরণ


রাজধানীর লালমাটিয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাইতুল উলুম তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মেহেদী হাসান নাহিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১১ বছরের শিশু লালমাটিয়া এলাকায় বাইতুল উলুম তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। একই মাদ্রাসার অভিযুক্ত নাহিদ শিক্ষকতা করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে ১১ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিল। গত বছরের ২৪ জুন তাকে ধর্ষণ করেন মেহেদী হাসান। এরপর ভুক্তভোগীর শিশুটির বাবা আবদুল্লাহ বাদি হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ এক বছর ধরে ভুক্তভোগী শিশু ছেলের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, কিছুদিন ধরে ছেলে মাদ্রাসায় যেতে না চাইলে সন্দেহ হয় পরিবারের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, শিক্ষক নাহিদ তাকে বড় হুজুরের রুমের চাবি আনার কথা বলে নিচতলায় নিয়ে যায় এবং সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের সময় তার মুখে কসটেপ পেঁচিয়ে ও কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। ভয়ে এতদিন কিছু না বললেও, একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তার পায়ু পথ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরে তার মা একান্তে কথা বলার সময় শিশুটি সব বলে।

নির্যাতনের পর শিক্ষক নাহিদ প্রাণনাশের হুমকি দিতেন, যাতে বিষয়টি কাউকে না বলে। বিষয়টি জানার পর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা আবদুল্লাহ বলেন, মামলা দায়েরের আগে ও পরে একাধিকবার অভিযুক্ত নাহিদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এত বড় অপরাধের পরেও অভিযুক্তের পরিবার তাকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। তারা তার ঠিকানা জানলেও পুলিশকে সহযোগিতা করছে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। আমি তাদের এই আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং দ্রুত দোষীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক নাহিদকে আইনের আওতায় আনতে লালমাটিয়া এলাকায় ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ করেন এলাকাবাসী। গত শুক্রবার (৭ মার্চ) জুম্মার নামাজের পরে লালমাটিয়ার বিভিন্ন মসজিদে এই লিফলেট বিতরণ করেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, মামলার করার পরও অভিযুক্ত নাহিদকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ নিরব ভূমিকা পালক করছেন। এতে করে অভিযুক্তের পক্ষে পুলিশের সহযোগীতা রয়েছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক নাহিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছে। তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত