একটা পরিপূর্ণ টেস্ট ম্যাচে পাঁচ দিন ধরে ২২ জন খেলোয়াড়ের স্কিল, দম আর মনোযোগ পরীক্ষার সঙ্গে তুলনীয় মুহূর্ত টেস্টের মতো ক্রিকেটের আর কোথাও নেই। একদম পঞ্চম দিনের শেষ বেলা পর্যন্ত খেলা গড়ালে সেই ম্যাচে রোমাঞ্চকর এমন অনেক মুহূর্তের দেখা মেলে, যা ৮-১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও পাওয়া যায় না।
চাইলে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের সাহিত্যকর্মের সঙ্গেও তুলনা করা যায়। চট করে বোঝা মুশকিল, অখণ্ড মনোযোগ আর ধৈর্য দরকার। অনেক সময়ই মনে হয়, বুঝতে পারছি না, মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এখনকার এই ব্যস্ত সময়ে যা বিরক্তিকর মনে হওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু একবার যদি এর মধ্যে ঢুকে যাওয়া যায়, তবে আজীবনের জন্যই হয়তো মজে যাবেন। টেস্টের স্বাদও অনেকটা এমনই। একবার হৃদয়ঙ্গম করতে পারলে এর সঙ্গে তুলনীয় কিছু পাওয়া মুশকিল।
একটা টেস্ট ম্যাচে খুব কমই অন্য দল খেলা থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। দ্বিতীয়বার সুযোগ আসেই। যদি দেখা যায় যে জেতা যাবে না, তবু প্রতিপক্ষের জয় আটকে নিজের হার ঠেকানো যায়। এখানে আশা বেঁচে থাকে প্রায় পুরো সময়জুড়েই। যা জয়-পরাজয়কেন্দ্রিক গরিমা আর হীনম্মন্যতার বাইরেও নির্ভেজাল খেলার অনুভূতি দেয়। ক্রিকেটের বিশুদ্ধতা, মাধুর্য, রূপ আর রসের সমাহার এখানেই। আসল ক্রিকেটের স্বাদও।
এবার একটু খেলাধুলার মূল কারণগুলো ভেবে দেখুন তো। দিন শেষে বিনোদন তো অবশ্যই, কিন্তু তার আগে খেলাধুলা কি সহনশীলতা, ধৈর্য, কৌশল, শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মঞ্চ নয়? মানুষ যে তার সামর্থ্যে সীমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, খেলাধুলার সবচেয়ে বড় বার্তা কি এটি নয়?
যদি প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে টেস্টই যে আসল ক্রিকেট, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—ক্রিকেটের অস্তিত্ব, জনপ্রিয়তার স্বার্থে সাদা পোশাক আর লাল বলের এই ক্রিকেটকে কেন বাঁচিয়ে রাখা হবে না! কিন্তু বাঁচিয়ে রাখার উপায় কী?
তৃতীয় ও শেষ পর্বে পড়ুন: