জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে উপ-সচিব পদে সব কোটার অবসান ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন করেছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের জগদ্ধাত্রীপাড়ায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়।
এতে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিসিএস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত, অতিরিক্ত উপপরিচালক কল্যাণ কুমার সরকার, অতিরিক্ত সহকারী উপপরিচালক (উদ্যান) শান্তনা রাণী, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ উদ্দিন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত আমরা বাকি ২৫ ক্যাডার বঞ্চিত। আমরা কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় চাই। উপ-সচিব পদে সকল কোটার অবসান চাই। ক্যাডারে কোনও বৈষম্য থাকতে পারে না। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বৈষম্য বজায় রাখতে চাচ্ছেন। তারা সরাসরি ফ্যাসিবাদের সমর্থন দিয়েছেন। এখন অন্তর্বর্তী সরকারকেও বিব্রত করছেন। প্রশাসন সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা মানতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনেকে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। আর যখন ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয় তখনি বলা হয় আপনাদের সে রকম কোনও পদ নেই। কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়নি। আমাদের দাবি একটাই, সব চেয়ারে এক ব্যাচের বসা কর্মকর্তাদের একসঙ্গে পদোন্নতি দিতে হবে। সেইসঙ্গে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’
উপসচিব পদে কোটার অবসান দাবিতে কুমিল্লায় ২৫টি ক্যাডারের মানববন্ধন
উপ-সচিব পদে কোটার অবসানসহ চার দফা দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন করেছেন ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপ-সচিব পদে পদোন্নতিতে ৫০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে। আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের দাবি স্ব স্ব পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিতে হবে। উপ-সচিব পদে নিয়োগ হবে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে আলাদা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ হতে হবে বৈষম্যমুক্ত। বৈষম্য থেকে মুক্তির দাবিতে আমাদের সন্তানরা, ভাইয়েরা প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডাররা আজও সবার মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। সব ক্যাডারকে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। এটা হতে পারে না।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপপরিচালক আইউব মাহমুদ, কুমিল্লা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুর রহমান খান, মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন, ডা. তাসলিমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন পোদ্দার এবং বিসিএস শিক্ষা সমিতি কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচিতে ২৫টি ক্যাডারের শতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উপ-সচিব পদে সব কোটার অবসান ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন করেছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান দিলারা আক্তার খান, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম পাঠান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপ-সচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বহির্ভূতকরণের প্রতিবাদ এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি আমরা। সেইসঙ্গে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
পাশাপাশি তারা বলেন, কয়েকদিন আগে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ ভাগ কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ ভাগ পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস হতে আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে উপ-সচিব পদে কোটার অবসানসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার পৌর পার্কে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন অফিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের সরদার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী, গোপালগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেনজির আহম্মেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শেখ আসলাম হোসেন ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবালা চক্রবর্তী বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপ-সচিব পদে পদোন্নতিতে ৫০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে। আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের দাবি স্ব স্ব পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিতে হবে। উপ-সচিব পদে নিয়োগ হবে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে আলাদা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
গাজীপুর
উপ-সচিব পদে সব কোটার অবসান ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন করেছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। এতে প্রশাসন ক্যাডার ছাড়াও বাকি ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের উপ-সচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস থেকে আলাদা করার সুপারিশের সিদ্ধান্তে সভা হয়। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রকিবুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন মাহমুদা আক্তার, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কাশেম স্বপন, গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার নারগিস খানম।