অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থায় খণ্ডকালীন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে জেলা প্রশাসকও আছেন। একজন খণ্ডকালীন প্রশাসকের পক্ষে সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজ চালানো সম্ভব নয়, এটা দেরিতে হলেও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা টের পেয়েছেন। বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের চার স্তরে শিগগিরই ‘ফুল টাইম’ প্রশাসক বসানো হবে।
কিন্তু কথা হলো, এতগুলো স্থানীয় সরকার সংস্থায় বিপুলসংখ্যক প্রশাসক নিয়োগের মতো জনবল সরকারের আছে কি না। যদি না থাকে, তাহলে উপদেষ্টার আশ্বাসবাণী আশ্বাসেই সীমিত থাকবে; জনগণের ভোগান্তি কমবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত জনগণকে পরিষ্কারভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা। পূর্ণকালীন লোকবল দেওয়ার পরও দেখা যাবে যে তাঁরা কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। ফলে জনগণের ভোগান্তির অবসান হবে না। স্থানীয় সরকারের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। সরকার অনেক বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করলেও স্থানীয় সরকার নিয়ে কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। এ থেকেই স্পষ্ট, স্থানীয় সরকার বা শাসনকে তারা কতটা গুরুত্ব দেয়।
স্থানীয় সরকারকে দুর্বল রেখে পৃথিবীর কোনো দেশেই গণতন্ত্র টেকসই হয়নি, বাংলাদেশেও সেটা আশা করা যায় না।