প্রতিবছরের মতো এবারও রাজস্থানের আজমির শরিফের খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগায় চাদর চড়াচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বছরের চাদর চড়ানোর সময়টি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন দরগার স্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সেনা দাবি করছে, অতীতে আজমির দরগার জায়গায় একটি শিবমন্দির ছিল এবং এই বিতর্ক বর্তমানে আদালতে চলছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) এক অনুষ্ঠানে মোদি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি জামাল সিদ্দিকির হাতে চাদর তুলে দেবেন। গত কয়েক বছর ধরে মোদি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আসছেন এবং প্রতিবছর আজমির দরগায় চাদর পাঠানোর মাধ্যমে তার শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন।
হিন্দু সেনার পক্ষ থেকে এই বছরেও মোদিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে তিনি চাদর পাঠানোর অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকেন। তবে মোদি সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে প্রতিবছরের মতো এ বছরও চাদর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর আজমির শরিফ দরগায় চাদর পাঠিয়ে আসছেন। এ বছর মোট ১১তম বার্ষিক চাদর চড়ানোর অনুষ্ঠানটি হবে। গত বছর, মোদি বিদেশে থাকার কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং জামাল সিদ্দিকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চাদর চড়িয়েছিলেন, তবে এই বছর চাদর নিয়ে যাবেন কিরেন রিজিজু এবং জামাল সিদ্দিকি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন আগামী দিনে হতে পারে এবং এই সময়ে মুসলিম ভোটারদের মধ্যে কোনো ভুল বার্তা না পৌঁছানোর জন্য মোদির পক্ষ থেকে চাদর চড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পটভূমিতে এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এবং এতে বিজেপি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে।