দুই মাসে নয়, গত দেড়-দুই বছরে দেশে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার সকালে বিজিবির সদর দপ্তরে বিজিবি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি ৬০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই মাসে নয় বরং গত দেড়-দুই বছরে দেশে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমরা রোহিঙ্গাদের আর কোনো অবস্থাতেই প্রবেশ করতে দেব না।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার (সীমান্ত) আছে, সেটি পুরোটাই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। আমাদের বিজিবির তাদের সঙ্গে কথা বলার যে অবস্থা ছিল, সেটি নাই। তাদের (আরাকান আর্মি) সঙ্গে এখন আনঅফিশিয়ালি কথা বলা গেলেও অফিশিয়াল কথার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি-যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা (রোহিঙ্গা) সমাধানের।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ডিটেইলস (বিস্তারিত) বলতে পারব না। আপনারা (সাংবাদিক) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তারা ভালো বলতে পারবে। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতে একটা ভালো ফল পাব।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে-সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে দুর্নীতির মাধ্যমে।’
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বিজিবি জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা ওইখানে গেলে জানতে পারবেন পরিস্থিতি কী। ওইখানে যুদ্ধ হচ্ছে। ওইখানের পরিস্থিতিও আপনারা জানেন। রোহিঙ্গারা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রবেশ করে।’
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আপনারা সব সময় চেয়েছেন বিডিআর একটা পূর্ণ কমিশন হোক। কমিশনটি প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করে দিয়েছেন গতকাল রাতে। কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে সাতজন। এখানের মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমান। তিনিই এই কমিশনের সভাপতি। এর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর আরও দুজন সদস্য থাকবেন। সিভিল সার্ভিস একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকবেন।’
এ ছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে হেনস্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী সব জায়গায় রয়ে গেছে। যে দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে হেনস্তা করেছে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’