চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের প্রতিশ্রুতি ৬৭.৩ শতাংশ কমে ২.৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭.২০ বিলিয়ন ডলার।
সোমবার (২৪ মার্চ) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব জানা গেছে।
এ সময়ের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে ৪.১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় ১৭.৩ শতাংশ কমেছে।
অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ২৯.৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ২.০৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল, এবার সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৬৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে ঋণের আসল পরিশোধ ১.৯৬২ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ ৯৪৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ৬৩.৪ শতাংশ ও ১৭.১ শতাংশ বেশি।
কেন কমেছে ঋণ গ্রহণ?
ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের মধ্য-মেয়াদি ঋণ কৌশলে নতুন বৈদেশিক ঋণ কম নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও উন্নয়ন সহযোগীরা আগের চেয়ে বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, সরকার শুধুমাত্র জরুরি বাজেট সহায়তা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে নতুন ঋণ চুক্তির গতি কমে গেছে, যা প্রতিশ্রুতি হ্রাসের অন্যতম কারণ।
সরকারের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য— বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমানো। অনেক প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড (সুবিধাজনক সময়সীমা) শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। তাই নতুন ঋণ কম নিয়ে আগের নেওয়া ঋণের অর্থছাড়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু বৈদেশিক অর্থছাড় কমে যাওয়ার ফলে কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে এ ধরনের প্রবণতা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার বলছে, ঋণ ব্যবস্থাপনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক চাপ সহনশীল রাখা যায়।