অন্তর্বর্তী সরকার ধসে পড়ার সম্মুখীন এমন একটি অর্থনীতি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে গত ছয় মাসে অর্থনীতির অবিশ্বাস্য উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে টেনে যেখানে তুলেছেন এসেছেন, তা ‘মিরাকল’।
আজ বুধবার (২৭) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত আলোচনায় একথা বলেন শফিকুল আলম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হামিদ-উজ- জামান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মুহিবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ উইল বি টপ পারফরমার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনোমি। ইকোনমি অনেকটা কলাপস হওয়ার একদম সম্মুখীন ছিল। মানে এই টাইমে এটা কলাপ্স হওয়ার মতো অবস্থায় ছিল। সেই জায়গা থেকে এই ইকোনমিকে ছয় মাসের মধ্যে যেখানে নিয়ে আসা হয়েছে— এটা আমি বলব একটা মিরাকল।’
তিনি আরো বলবেন, ‘আপনি গভর্নমেন্টের হয়ে এই কথাগুলো তো বলবেনই, সত্যিকার অর্থে আপনারা যদি ফিগারগুলো দেখেন, বাংলাদেশের ইকোনমি যেভাবে কামব্যাক করেছে, সেটা একটা মিরাকল। এটার গত ছয় মাসে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যতগুলো কাজ করেছে, সেটার জন্য যেই রিপোর্টিং হওয়ার কথা সেটা আমরা দেখি নাই।’
তাঁর হিসেবে, গত দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমেছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে তা সাত শতাংশে নেমে আসবে। এখন প্রয়োজন জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
ব্যাংক খাত নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আমানতকারীরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এই বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বার বার দিচ্ছেন। আগের সরকার এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলে এখন কেউ এক টাকাও ব্যাংক রাখত না।
প্রেস সচিব বলেন, বিগত সরকার জ্বালানি খাতকে চুরির কারখানা বানিয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে ডাকাতির বন্দোবস্ত করেছে। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এই ডাকাতি হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘টাকা নাই, কিন্তু ৫৬০টি মসজিদ বানিয়েছে। এমন রেলপথ বানিয়েছে, যেখানে দিনে একটি ট্রেন চলে। প্রকল্প খরচ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পছন্দের লোককে সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন করা হয়েছে।’
ব্যয়বহুল কর্ণফুলি টানেল নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আরও দশ বছর পরে এই টানেল হলে ভালো হতো। তখন হয়তো কর্ণফুলির ওই পাড়ে অনেক কিছু হবে। টানেল এলাকায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকায় সাত তারকা মানের হোটেল করা হয়েছে, যা অপচয়।
‘সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। সেখানে তেমন কিছু নেই। নিজের এলাকায় যাওয়ার জন্য উনি কর্ণফুলি টানেল প্রকল্প নিয়েছেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) খোঁজ নিয়ে দেখেন। ৪৫০ কোটি টাকার হোটেল করেছেন মন্ত্রী। তিনি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন ধরে নিয়ে এই আয়োজন করেছেন। তাঁর বাড়ি আনোয়ারার এই জন্য টানেল নির্মাণ করেছেন।’
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশে থাকলে অন্তত কর্মসংস্থান হতো। কানাডায় বেগম পাড়া হয়েছে, লন্ডনে ব্লকের পর ব্লক কেন হয়েছে।
আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক মফিজুল সাদিক, অর্থ সম্পাদক মো জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সদস্য জাগরন চাকমা ও মোহাম্মদ জাকারিয়া কাঞ্চন।