ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিলুপ্ত সংসদের তিনটি আসনে নির্বাচন করেছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। নিজের ফেসবুক পোস্টে সেই তিনটি আসনে জয়ের দাবি করেছেন হিরো আলম। নেটিজেনদের ধারণা, আদালত চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই সিটি মেয়রকে নির্বাচিত ঘোষণা করায় এমন দাবি তুলেছেন আলম।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে হিরো আলম লেখেন, ‘যেহেতু ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৭, বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের এমপি পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক আমি তো অনেক নির্যাতিত হয়েছি।
২০২৩ সালে ঢাকা-১৭ আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মোহাম্মদ আলী আরাফাত নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একতারা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৬০৯ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট পড়েছে ১১ দশকি ৫১ শতাংশের মতো। এই নির্বাচনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ৩৭ হাজার ৪২০। এর মধ্যে ৩৮৩টি ভোট বাতিল বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে জামানত হারিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম। এই উপ-নির্বাচনে হিরো আলম বগুড়া-৬ আসনে পাঁচ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য দরকার ছিল ১১ হাজার ৪৬৮ ভোট।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপ-নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের কাছে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান হিরো আলম।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার মোট ১১২টি কেন্দ্রে ৭৮ হাজার ৫২৪ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন (মশাল)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফুল হোসেন (একতারা) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোশফিকুর রহমান (ট্রাক) ১০ হাজার ৭৯১ এবং কামরুল হাসান সিদ্দিকী (কুড়াল) ১০ হাজার ৪৪২ ভোট পেয়েছেন।
এ ইউ/