গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় নাটক মঞ্চায়নে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। একই স্থানে আজ শনিবার নির্ধারিত নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে আজ ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উপদেষ্টা লেখেন, ‘কালকে থেকে অনেক লেখালেখি হলো একটা রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। মুসল্লি, ইমাম সবাইকে জড়িয়ে রিপোর্ট বানানো হলো। বলা হলো আজীবন এখানে নাটক নিষিদ্ধ থাকবে। ডেকোরেটরের লোকজন এসে স্টেজ খুলে নেয়ার কথা বলা হলো। অথচ কালকে রাতে আয়োজকরাই বললেন, ঐ স্টেজ বানানোই হয়নি। এবং তারা পরিষ্কার বলেছেন, স্থানীয় সিনিয়র-জুনিয়রের বিরোধে এটা ঘটেছিলো। কোনো মুসল্লি হুমকি দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। আজীবন নাটক নিষিদ্ধতো দুর কি বাত। ইমাম স্পষ্ট বললেন, তিনি এ রকম কোনো কথাই বলেন নাই। বরং তিনি সমাজের বিভিন্ন অংশের সহ অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষ।’

উপদেষ্টা লেখেন, ‘সাংবাদিক ভাই-বোনদের প্রতি অনুরোধ, সেনসেশন তৈরি করার জন্য ভুলভাল কিছু লিখবেন না। আপনাদের সহযোগিতা দেশের দরকার। আপনাদের নিজেদের ক্রেডিবিলিটির জন্যও এটা দরকার।’
বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করে আজ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফারুকী লেখেন, ‘যাই হোক, স্থানীয় জনগণ, পলিটিক্যাল স্টেকহোল্ডারস, ইউএনও, পুলিশ এবং সবার সহযোগিতায় দ্রুততার সাথে এটা সমাধান হলো। আজকে নাটকটা অভিনীত হচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ, ছুটি ভুলে কাজ করার জন্য।’

এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় নাটকের মঞ্চায়ন বাতিলের ঘটনা রাজনৈতিক কারণে। এতে কোনো ধর্মীয় বিষয় জড়িত নয়।
গতকাল শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তরের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল সকালে কাপাসিয়া থানার রানীগঞ্জ উদয়ন সংঘ মাঠে ঈদ উপলক্ষে ‘আপন দুলাল’ নাটকের মহড়া চলছিল। এটি স্থানীয় যুবদল নেতা শামসুল হকের নেতৃত্বে আয়োজন করা হয়। নাটক আয়োজনে বিএনপির স্থানীয় সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আজিজুর রহমানের অনুরোধে শামসুল হক নাটকটি মঞ্চায়ন থেকে বিরত থাকেন। ঘটনাস্থলে কোনো মঞ্চ ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। বরং রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই নাটকের মঞ্চায়ন বাতিল করা হয়।
পুলিশের পোস্টে আরও বলা হয়, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমামের বক্তব্য উল্লেখ করে যে খবর প্রকাশ করেছে, তা বিভ্রান্তিকর। ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ইমাম আজিজুল হক বলেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্থানীয় খন্দকার শাহাদাত হোসেন নামের এক নাট্যকর্মী গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার রাতে তাঁরা নাটক নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন রানীগঞ্জ বাজার মসজিদের ইমাম, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও কয়েকজন মুসল্লি এসে নাটক বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে নাটকের মঞ্চ ও প্যান্ডেল খুলে নেওয়া হয়।