ট্রাম্প-সমর্থকদের প্রত্যেকেই হয়তো ট্রাম্পকে সমর্থন করার পেছনে একই কারণ দেখাবেন না; কিন্তু তাঁদের মধ্যে একটি সাধারণ মিল রয়েছে। সেটি হলো, তাঁরা সবাই ডানপন্থী প্রচারণার প্রবল প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে মোহগ্রস্ত হয়ে আছেন।
এসব ভোটার এক দশক ধরে ট্রাম্পের এমন সব উদগ্র ও বিষাক্ত বক্তব্য শুনে আসছেন, যা কিনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ মাত্র। আমেরিকানরা প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রয়াত রাশ লিম্বোর (প্রভাবশালী আমেরিকান রেডিও ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী চিন্তাধারা প্রচার করতেন) ঘৃণামূলক কথাবার্তা শুনেছেন এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে ফক্স নিউজের একঘেয়ে মুখগুলোকে মিথ্যা ছড়াতে এবং বিভেদ উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকান নেতাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন ট্রাম্প নামক দানবটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘কনজারভেটিভ’ আন্দোলন তাদের সর্বনিকৃষ্ট প্রবৃত্তির প্রকাশ ঘটানোর প্ল্যাটফর্ম পেয়ে গেছে। রক্ষণশীল মিডিয়ায় ট্রাম্প স্থায়ী মঞ্চ পেয়ে গেছেন।
২০১৫ সালে ট্রাম্প যখন ট্রাম্প টাওয়ারের সেই ‘স্বর্ণালি’ এসকেলেটরে নেমে আসেন এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার ঘোষণা দেন, তখন দেখা যায়, যাঁরা ডানপন্থী মিডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন এবং এর সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের দ্বারা সমালোচিত, অবহেলিত ও অপমানিত হচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর প্রতি মুগ্ধ হয়ে রয়েছেন।
অর্থাৎ ট্রাম্পের উত্থান কনজারভেটিভ আন্দোলন ও মিডিয়ার গতিপথে একটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকানরা নিজস্ব অবস্থান হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্টাইল ও ব্যক্তিত্ব তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।