Homeসাহিত্যরূপকুমারী নদীর চুম্বন ও কায়সারের কবিতায় প্রেমের যাপনচিত্র

রূপকুমারী নদীর চুম্বন ও কায়সারের কবিতায় প্রেমের যাপনচিত্র


পাবলো নেরুদার Veinte poemas de amour y una cancion despereda ‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি বিষাদগাথা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। কাকতালীয়ভাবে ঠিক ১০০ বছর পর টি এম কায়সারের ‘শিয়র ও শিরোন্ত্রাণ নিয়ে একগুচ্ছ রাফসডি’ (২০২৪) কাব্যগ্রন্থের রূপকুমারী নদীর চুম্বনসমৃদ্ধ কবিতাগুলো পাঠ করতে করতে পাঠকের চিরপ্রেমিক ও বিপ্লবী কবি পাবলো নেরুদার কথা ভীষণভাবে মনে পড়বে, মনে পড়বে এই কুড়িটি কবিতার কথা।

মনে পড়বে Body of a Woman পাবলো নেরুন্দার প্রথম প্রেমের কবিতাটির কথা। আমরা দেখতে পাই—

Body of a woman, white hills, white thighs, You look like a world, lying in surrender. My rough peasant’s body digs in you and makes the son leap from the depth of the earth. I was alone like a tunnel. The birds fled from me. And night swamped me with its crushing invasion. To survive myself I forged you like a weapon. like an arrow in my bow, a stone in my sling.

Body of my woman, I will persist in your grace. My thirst, my boundless desire, my shifting road! Dark river-beds where the eternal thirst flows, and weariness follows, and the infinite ache. Translated by W.S. Merwin)

প্রচলিত প্রেমের কবিতার ভাব ও অনুভবের ছাঁচ ভেঙে কবিতার মুক্তি দিয়েছিলেন পাবলো নেরুদা। নেরুদার একাকিত্ব ও শূন্যতার অনুভূতির শারীরিক প্রকাশ এই কুড়িটি কবিতা। নারী হচ্ছে সেই একাকিত্ব থেকে মুক্তির কিংবা উত্তরণের প্রথম ও শেষ পথ। শরীরের মাধ্যমে যে বাৎসায়নিক দর্শনের চর্চায় একীভূত হতে দেখি কবিকে, সেই একই অভিজ্ঞানে বিংশ শতকের শেষ দশকে এসে একজন বাঙালি তরুণ কবি লেখেন—

এক প্রলয়ংকরী চুম্বনের পর

বলিনি? এই চুম্বনগুলোই টিকে থাকবে
এই সব মরণশীল মাঠ নদী প্রেম স্মৃতি ও গ্রহাণুপুঞ্জ
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাবে সব, ধীরে

এই যে দাঁড়িয়ে আছি সহস্রবর্ষ প্রাচীন প্যাগোডার নিচে
এই দৃশ্যে অক্ষয় শুধু আমাদের জলোন্মাদ ওষ্ঠ-অভিসার
চতুর্দিকে যা দেখছ কালগর্ভে লুপ্ত হবে সব

শুধু লক্ষ সৌরবর্ষ পরও আমাদের ছায়া
তারপর আমাদের ছায়ার ছায়া, ছায়ার ছায়ার ছায়া
ছায়ার ছায়ার ছায়ার ছায়া…পান করবে একে অপরের রক্ত
একে অপরের আত্মা একে অপরের অস্থি এবং অস্তিত্ব
ইসরাফিলের শিঙা বেজে ওঠার পরও…

কায়সারের এই সাহস কখনোই মিলত কি না জানি না, যদি পাবলো নেরুদা প্রেমের এই অ্যানার্কিস্ট পর্যায়ের কবিতা না লিখতেন।

চিত্রকল্পের বাস্তবতায় প্রবহমান যান্ত্রিকতার বিপরীতে স্পর্শযোগ্য সততায় সম্মোহিত হয়েছিলেন পাবলো নেরুদার পাঠকগণ। নেরুদা ও কায়সার জানেন কবির মূল কাজ হচ্ছে ভাষা দিয়ে সেতু রচনা করা, আর প্রেমের বেদনা নয় শুধু বিচ্ছেদের, দূরত্বের, অপরিচয়ের, অসম্পূর্ণতার বর্ণনা, উৎকণ্ঠার রূপায়ণকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করাই মূল কাজ কবির। তা ছাড়া উপস্থাপিত অনুভব ও বোধ মূলত কোন তাত্ত্বিকরূপে কবিদ্বয় ধারণ করলেন, সেটা আমাদের দেখার বিষয়। নেরুদার মতোই প্রকরণ ও চিন্তার অনুভূতির বদল ঘটেছে কায়সারের বিভিন্ন কবিতা থেকে কবিতা যাপনে। নিরাভরণ এই কবিতাগুলোকে আবেগের সততায় আবর্তিত বলে সেলাম করতে ইচ্ছে হবে পাঠকের। কায়সার সেমিটিক মিথের ইসরাফিলের শিঙার ফুয়ের পরেও প্রেমের জয়গান জাগরূক রেখেছেন—যা ভিন্ন বিপ্লবের বা ফুকোর বিনির্মাণের দিকে যাত্রার অঙ্গুলি নির্দেশ করে। এখানে নেরুদা থেকে আলাদা কাজ প্রকরণ এবং বোধে তিনি। পাবলো নেরুদার একটি বক্তৃতার উদ্ধৃতি দেওয়া যাক :

“দুই ধরনের ভালোবাসার কথা আছে ‘ক্রেপুস্থলারিও’তে। আমার গ্রামীণ বয়ঃসন্ধিকাল ভরে রেখেছিল একরকম প্রেমে আর নগরে অপেক্ষা করছিল আমার জন্য আরেক ধরনের প্রেম, স্যান্টিয়াগোর গোলকধাঁধায়। কুড়িটি প্রেমের কবিতায় এসে দুটি প্রেমেই মিলিত হয়েছে পৃষ্ঠার এপিঠ-ওপিঠ তার একটিতে যদি বনের উদ্ভাস, তবে অন্যটিতে মধুর অন্ধকারের যবনিকা।” (অনুবাদ: আলী আনোয়ার)

নেরুদার মতোই কায়সারের কৈশোর থেকে মধ্যযৌবনের যাপনচিত্রে দুটি শহরের প্রভাব অনিবার্যভাবে তার কবিতায় প্রতীয়মান। এক মফস্বল শহর সিলেট ও অন্যটি ইংল্যান্ডের লিডস নগরী। এই গ্রামাক্রান্ত শহর সিলেট ও তার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্লোকে যেখানে প্রগাঢ় শরীরী প্রেমের যাপনচিত্র না চাইতেই ঘটে গেছে নেরুদার মতো কোন এক ‘মাতিলদে’র সঙ্গে; তা না হলে এমন কাব্যগ্রন্থ লেখা যৌবনে সম্ভব হতো না কায়সারের। বিলম্বিত এই প্রকাশ অনেকটা অভিমানে, সে গল্প অন্য কোথাও হবে একদিন।

হৃৎস্পন্দন ঘটবে বোধে, ধরা পড়বে নস্টালজিক হিরন্ময় স্মৃতি। স্মৃতিরা যেন হীরকরেণুর মতো ঝরছে কখনো রূপকুমারী নদী, কখনো রত্না নদী, কখনো শঙ্খ নদীর মতোই অচেনা বিলেতের দুঃখী নদীর জলে অথবা ওয়ার্ফ নদীর নির্জন বাঁকে।

আমরা কখনো ধ্যানোন্মাদ সঙ্গমের মতো ঢেউ তুলে পাল খুলে সেই নদীতে নেমে পড়ি তীব্র অবগাহন শেষে কবির সঙ্গে সৌরভ ভরা ধ্যানে জেগে থাকি, ডুবে মরে বেঁচে উঠি রূপনারাণের কূলে।

গাঢ় আর গূঢ় চুম্বনের স্মৃতিই ধরা থাকে বরফের মাঝে, উষ্ণতা দেয়-রক্তাক্ত হতে হতে আবার ভেসে উঠি আনন্দ বিভঙ্গে।

রূপকুমারী নদী ছায়ায়
একাকী অভিমানী প্রেমিক
গৌ ধরে বসে থাকি?

কে না এমন অভিমানে আত্মমেহনে নিজেকে নবাবকুল শিরোমণি ভাবিনি একদিন! অথচ আশ্চর্য এই অভিমান শব্দটির যথার্থ ইংরেজি আছে কি? আহা অভিমান আহা!

তিরবিদ্ধ হরিণ শাবকের মতো আহত হৃদয়ে ভীমপালশ্রীতে গাইছি, জীবনের আর্তকথা, শেষ ব্যালাড, সেই রক্তাক্ত প্রেমিকই তো গাইতে পারে যিনি প্রেমের অমৃতবিষ করেছে পান।

নেরুদার মাতিলদে, হিমেনেথের প্লাতেরা, জীবনানন্দের বনলতা সেন, শঙ্খ ঘোষের গান্ধর্ব, আল মাহমুদের আয়েশা আক্তারের মতো রক্তের অন্তস্রোতে কায়সারের যে সখী খেলা করে তাকে তিনি বলতে চান—

কেন যে ফেরাতে চাও? আমার তো রক্তে সখী
আবাল মাটির ডাক, অনন্ত গুহাব্রত, আমূল সন্ন্যাস

সত্যিই তিনি আমৃত্যু সন্ন্যাসী, তাকে হাতছানি দেয় হাওড় আর প্রকৃতির চেনা অচেনা বৃক্ষকুল, তাকে ডাকে ইউরোপের বিশেষ করে লিডসের সেই ঘুমন্ত আদুরিয়া দুঃখী নদী; যে নদীর সঙ্গে তার পূর্বজনমের টান, যে নদী কখনো তাকে তার বালকবেলার সুরমা, কুশিয়ারার উত্তাল প্রেমোন্মাদ যৌবনের কথা ভুলতে দেয় না, ইংল্যান্ডের লিডসের সেই নদী ওয়ার্ফ। আহা সৌভাগ্যবান ওয়ার্ফ।

ঘুমন্ত্র নদী ও চন্দ্র, উড্ডীন বালিহাঁস
হাতছানি দেয় নিরবধি
জোছনায় নয় শোনো, বিস্তীর্ণ অন্ধকারে মুখ ঢেকে রাখি

এই ‘সখী’ আক্ষরিক অর্থে কবি সিলভিয়া প্লাথ বটে, তবে তার মানস-প্রেমিকা কখনো গ্রিক কোনো অপরূপা বায়োলিন বাদিকা হলেও, এ যেন কোনো ইয়াসমিন, জেসমিন, প্রেমেশ্বরী, আল মাহমুদের চুল খোলা আয়েশা আক্তার।

কিংবা ‘গন্ধর্ব, তোমার হাত ছুঁয়ে/এই শিলাগুলুল্ম চিরজাগরূক
বোধ নিয়ে আসে কিংবা শঙ্খ ঘোষ যখন বলেন,

যদি বলি হাত ধরো ভয় পাও, সেবার হাতের
ভিতরে আরেক হাত জেগে ওঠে।

কায়সার লিখেন—

বারুতখানা রোডের ধারে হাঁটছি যখন
স্লাবের চিপায় পা ঢুকিল হঠাৎ কখন
গোঁসাই, আমার হাত ধরো নয় ভেসে যাব
চেনার স্রোতে

সেমিটিক গদ্য বলছি দ্বিতীয় ভাষ্যে লেখা ‘হস্ত বিবৃতি’, ‘সেলুলয়েড কাব্য’ যেখানে বিগত জন্মের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় পুনর্জন্মের পুরাণকথা। কে বলতে পারে সেই দুঃখী নদীর কথা ছিল কি না?

স্মৃতিভাষ্য, স্মৃতিপুরাণ, আর স্মৃতিতে বসবাসই মনুষ্যজন্মের প্রাগ-ইতিহাস উৎসারণ। প্রেমের মরা জলে ডোবে না, শাশ্বত প্রেম মানুষকে বাঁচায়, অক্সিজেন দেয় অবিনাশী সময়ে। অন্তর্গত দীর্ঘশ্বাসের যে আত্মঅনুসন্ধান একজন প্রেমিককে কীভাবে অভিমানী করে তোলে দেখুন ‘মনোলগ’ কবিতায় প্রতিস্থাপিত হতে দেখি—

দৌড়াও নিঃস্ব হয়ে
রাত্রি এলে আশ্রয় নিও নতুন নতুন সরাইখানায়
আর পথিমধ্যে যদি আবার কোনো রক্ত, অশ্রুও হৃদয়-খেকোর
সঙ্গে দেখা হয়
তাকে খেতে দিও অবশিষ্ট রক্তধারা
ধোয়ামোছা নতুন হৃদয়।
এ যে ভয়ংকর প্রেমানুভূতি। তীব্র রূঢ় বাস্তবতার ফসল।

‘শিশির’ কবিতায় ভাস্কর চক্রবর্তীকে মনে পড়বে আমাদের ভাস্কর যেন মধ্যবিত্তের পলায়নপর অস্তিত্বের স্মারকগাথাই লিখেছেন—

এখনও আমি বেঁচে আছি ঘুরে বেড়াচ্ছি ভাবতেই অবাক লাগে কেমন
কিরোর মতে আমার মরে যাওয়া উচিত ছিল গতবছরেই…

কায়সার তার নিজস্ব ঘরানায় আমাদের কিরো কিংবা কোনো জ্যোতিষবিজ্ঞানের নাম করা জ্যোতিষী ছাড়াই বলেন—

মধ্যরাতের পর আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না
এই যে মাটির গভীর থেকে উঠে আসছে মৃত সব কঙ্কালের বিলাপ

আহা সেই নিঃসঙ্গ ডাহুক যেন বাল্মিকীর হাতে তিরবিদ্ধ ক্রৌঞ্চ, সঙ্গিনীর মৃত্যুর পর একা নিঃসঙ্গ ক্রৌঞ্চ কবি।

‘রাত তিনটে চল্লিশ মিনিট’ কবিতায় নিঃসঙ্গতার জার্নালে প্রতিটি কবিতা যেন একজন একাকী নিঃসঙ্গ পথিকের আর্তনাদ। যে কিনা সরাইখানার ঠিকানাহীন এক নিঃস্ব প্রেমিক, যার শরাবের নেশায় ধ্যানস্থ হয় মাতাল যুবক-যুবতী।

গলায়, কপালে ও কানের লতিতে চুম্বন করতে
গিয়ে অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়ে

সত্যি রবীন্দ্রনাথের সেই ‘ওগো আকরুণ, কী মায়া জানো মিলন ছলে বিরহ আনো’। কিংবা গীতিকবি কবীর সুমনের

এ তুমি কেমন তুমি, চোখের তারায় আয়না ধরো!
এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো।

এই ‘গোঁসাই’ প্রেমিকাও যেমন তেমনি তার পরমাত্মাও বটে। এখানেই হুয়ান র‍্যামন হিমেনেথ, পাবলো নেরুদা থেকে আলাদা কায়সার। এমনকি শঙ্খ ঘোষ ও আল মাহমুদ থেকেও। ‘কালসাপ’ কবিতায় কিন্তু এমে সেজায়ারের মতো দেশে ফেরার আকুতি লক্ষ করব। এটি কি তার বিলেতে থাকার যাপনচিত্র? অভিবাসী মন বারবার স্বদেশি নিঃশ্বাসের খোঁজে আত্মিক অনুভূতির তাড়নায় শিকড়ে ফিরতে চায়।

পায়ের তলায় হুল ফুটেছে, বিষে মরে যাইগো
দারুণ বিষে মরে যাই আমি কেমনে দেশে যাই

কখনো মনে হবে ভবা পাগলার গান কিংবা রামপ্রসাদী, তবে কায়সার যখন বলেন, ‘বেলা গেল সন্ধ্যা হলো ঈশান কোণে মেঘ জমিল কোন আঁধারে কোন বাদাড়ে এই দেহখান থুই?’ তখন আবদার করে গুল্মকাঁটা হাটুইমা পথের কাদায় আমরা হাওড়পারের মরমিয়া এক নতুন বাউলের খোঁজ পাই। এ যাত্রায় খুব কমই তিনি এঁকেছেন বুদ্ধ নামে ‘নখ ও জিভ বিষয়ক’ ‘রক্ত-বুদবুদ’ কিংবা ‘জীনপুর’ বিষয়ক অহিংস কবিতা। যেখানে অন্যবিশ্ব থেকে এই দেহাত্মা প্রেমাত্মা ভিন্ন।

জীনপুর যাব গুরু পথ বলে দাও
দেহবৃক্ষের পাঁচ ডালে ঢুকে গেছে কাল
শেকড়ে ক্ষুধার্ত কালো মুষিক-মাচ্ছব
আটটি কুঠুরি গুরু ভিজে গেল ঘোলা অন্ধকারে
দশম দরজা থেকে মার্কেপ্টানের গন্ধ ভেসে আসে।

‘এই যে দেহবৃক্ষের পাঁচ ডাল’ এ তো সুফি সাধনার পারস্যফল। অপরদিকে ভারতীয় তন্ত্র সাধকেরা হাজার হাজার বছর ধরে যে গুরুপরম্পরার সাধনা করেছেন তারই ‘ঈশক’ সাধনতন্ত্র এই কবিতা। যা পাশ্চাত্যের আধুনিকবাদীরা কোনো প্রকারেই চিন্তা ও কল্পনার ধারণ করতে পারবে না প্রাচ্যের এই ‘মানুষরতন’।

সমালোচনার জায়গা আছে, সমালোচনা সবকিছু নিয়ে করা যায়, কিন্তু কায়সারের তপ্ত যৌবনে লেখা এই মধুমাখা প্রেমানুভূতি আর মরমিয়া ভাব নিয়ে শুধু আমার অনুভূতিই ব্যক্ত করলাম এই পাণ্ডুলিপিটি পাঠান্তে।

মালার্মে কথিত দৈবের ‘অপলোপসাধন’ কবির পক্ষে অসম্ভব। তেমনি মহৎ প্রতিভার ক্ষেত্রেও কালজয়ী কবিতা লেখা মূলত অর্জন সাপেক্ষে। রাইনে মারিয়া রিলকের মতো ব্যক্তিগত জীবনের তুমুল বোহেমিয়ান বিশৃঙ্খলার ছাপ আমরা লক্ষ করব কায়সারের জীবনযাপন ও কবিতার মর্মে, কবিতার শরীরে। নিজের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হতে হতে দেহাত্মা আর পরমাত্মার সম্মিলন ঘটিয়ে শেষ কবিতায় ভারতীয় দর্শনে মগ্ন কায়সার গুরুর শরণাপন্ন হয়েছেন এই গুরু হয়ত আত্মশোধনের, এই গুরু হয়ত পরমাত্মা, এই গুরু অচেনা, এই গুরুর কাছেই তিনি অচিনপুর, জীনপুরের পথের খোঁজ জানতে চাচ্ছেন এই পথ অচিন পথ, এই পথ প্রাচ্যের, মৌলিক দর্শনের পথ, এই পথেই লুকায়িত প্রাচ্যদর্শনের আদিপাঠ :

জীনপুর যাব গুরু পথ বলে দাও
দেহ ধুনে খুনে একা বিয়েছি বিভ্রম
বিভ্রম ধুনে এহেন শূন্যে ভেসেছি
জীনপুর পাই কোথা গুরু শুধু পথ বলে দাও।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত