Homeঅর্থনীতিকরমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ করলে শূন্য রিটার্ন বাড়ার শঙ্কা এনবিআর চেয়ারম্যানের

করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ করলে শূন্য রিটার্ন বাড়ার শঙ্কা এনবিআর চেয়ারম্যানের


বর্তমান মূল্যস্ফীতির সময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ ও বাণিজ্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মোট ৩৫টি প্রস্তাব দেয় ইআরএফ। এ সময় বিষয়টি বিবেচনার কথা জানালেও এ ক্ষেত্রে শূন্য রিটার্ন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি করবর্ষে অনলাইনে জমা দেওয়া ১৫ লাখ আয়কর বিবরণীর ১০ লাখই শূন্য জমা পড়েছে। অর্থাৎ, ১০ লাখ করদাতা তাদের আয়কর বিবরণীতে যে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন, তার বিপরীতে কোনো কর দিতে হয়নি।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ব্যক্তি করদাতাদের করছাড়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লাখ বা ৫ লাখ টাকায় নিয়ে আসা যৌক্তিক কথা। প্রব্লেমটা হলো, যেমন ধরেন এখন ডিজিটালি রিটার্ন সাবমিশন হওয়ায় সব তথ্যগুলো আমার হাতে চলে আসছে। আজকে দেখলাম, ১৫ লাখ ১৫ হাজার হয়েছে। প্রতিদিন কিন্তু ২-৩ হাজার করে রিটার্ন পাচ্ছি এখন। আমাদের অনলাইন রিটার্ন এখনো চালু আছে। অনলাইন রিটার্ন বন্ধ নাই। আবার অনেকেই রিভাইজড রিটার্ন দিতে পারছেন অনলাইনে, এটা একটা বড় সুবিধা হয়েছে।

তিনি যোগ করেন, ১৫ লাখ রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখ রিটার্নই জমা পড়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকার নিচে। এরা এক টাকাও ট্যাক্স দেয় নাই। টু থার্ড। এটা কিন্তু পেপার রিটার্নের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। এটি বাড়িয়ে চার লাখ করলে শূন্য রিটার্নের সংখ্যা আরও এক লাখ বেড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তো এখন যেটা ঘটছে, আসলে কোয়ালিটি ট্যাক্সপেয়ারের সংখ্যা খুবই কম। এখন যদি আমরা এই সিলিংটাকে একটু বাড়িয়ে দেই, আমরা আলোচনা করব, দেব না-এটা বলছি না।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর একটা অসুবিধা রয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, শুধু এতটুকু বলছি, আরও বড় একটা গ্রুপ যারা মিনিমাম কর দিত, তারাও ওই যে জিরো ট্যাক্সে চলে যাবে। এইটা হলো অসুবিধা।

তবে এ বিষয়ে ভেবে দেখা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

আলোচনা সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক থাকায় অনেকে ব্যাংক টাকা রাখতে চাচ্ছেন না। এ রকম অবস্থায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার এবং মুনাফার ওপর কর কমানো যেতে পারে।

এর উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, আসছে বাজেটে রিলিফ পাবেন। অনেকেই বলে, লোন নিলাম ব্যবসার জন্য আর ব্যাংক টাকা কেটে নিয়ে গেল। আয়ের আগেই এ ধরনের উৎসে কর রাখা অযৌক্তিক হলেও রাজস্ব আদায় বাড়াতে এসব নীতি নেওয়া হয়েছিল। এবার কিছু কমানো হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, এই পর্যন্ত যত ব্যবসায়ীদের কথাই শুনেছি, তাদের কথা খুবই যৌক্তিক এবং আমাদের পলিসিটা আসলেই একটু এগ্রেসিভ হয়ে গেছে ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য। এদিক থেকে আমরা সুযোগ নিয়েছি। পলিসি দিয়ে নিয়েছি কিন্তু যে অপারেশনাল এফিশিয়েন্সি বাড়াইনি। ফাঁকি ধরা বাড়াইনি। এই যে ধরেন ১০ লাখ লোক তারা ট্যাক্স দিল না, তাদের একটু খোঁজখবর নেওয়া যে আসলে কি তারা ট্যাক্স না দেওয়ার মতো লোক, নাকি তারাও চাইলে মিনিমাম ট্যাক্সে দিতে পারত।

নিম্নবিত্তের করের বোঝা কমানোর দাবি তুলে ইআরএফ সভাপতি মালা বলেন, বাজেটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির ওপর করের বোঝা কমাতে বাড়তি দেওয়া কর এমএফএসের মাধ্যমে ফেরতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাঁদের করযোগ্য আয় নেই, তাঁদের ব্যাংক সুদের ওপর কেটে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণে করহার ৫ শতাংশে সীমিত রাখা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে পৃথক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, যাতে তারা বন্ড সুবিধা সহজে পান, বাজেটে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব পরিকল্পনা করা ও তার জন্য বরাদ্দ রাখা, বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে করমুক্ত রাখা, করপোরেট কোম্পানিগুলোর রিটার্ন দেওয়ার হার এত কম কেন, তা নিয়ে এনবিআর-ইআরএফ যৌথ জরিপ চালু করা, প্রান্তিক করদাতাদের জন্য ডেডিকেটেড ডিজিটাল সার্ভিস এবং তামাকের কর বাড়ানোর সুপারিশ করে ইআরএফ।

ইআরএফ সভাপতি মালা বলেন, ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ কর হার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। এতে কর প্রদানে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে না।

মালা বলেন, বিভিন্ন রকম হারের পরিবর্তে ভ্যাটের হার ৭ শতাংশ করার পরামর্শ থাকছে আমাদের পক্ষ থেকে। এতে করে ভ্যাট ক্যালকুলেশন, আদায় সংক্রান্ত সমস্যা ও বৈষম্য দূর হবে।

রাজস্ব বাড়ানোর উপায় তুলে ধরে দৌলত আকতার মালা বলেন, বাজার মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ কর আদায় যেতে পারে। এতে অপ্রদর্শিত থেকে যাওয়া সম্পদ থেকে রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব। এ ছাড়াও পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইনসহ মিডিয়ার করহার কমিয়ে আনার সুপারিশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত