Homeসাহিত্যনিজেকে ভেঙেচুরে একাকার করতে চাই : আসমা অধরা

নিজেকে ভেঙেচুরে একাকার করতে চাই : আসমা অধরা


সাহিত্য বিভাগের নির্ধারিত প্রশ্নে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কবি আসমা অধরা। জন্ম ১৪ই মে, ঢাকা। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘একদিন ঠিক হেঁটে যাবো’, ‘হাওয়াকল’ এবং ‘ওয়ালথার পিপিকে’।

বাংলা ট্রিবিউন: কোন বিষয় বা অনুভূতি আপনাকে কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত করে?

আসমা অধরা: সাধারণত আমি যে কথাগুলো মুখে বলতে চাই কিন্তু পারি না। সব বিষয়েই— জীবন, প্রেম, কষ্ট বা বেদনা, চিৎকার, কান্না, বিষাদ, আনন্দ, চারপাশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এই সবকিছুই আসলে লেখার মধ্যে চলে আসে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কী ধরনের থিম বা বিষয় নিয়ে কবিতা লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

আসমা অধরা: নির্দিষ্ট নয়। সবকিছুই আসে এতে। জীবনের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত কিছুই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তাৎক্ষণিক অনুপ্রেরণায় লেখেন, নাকি ধীরে ধীরে শব্দ সাজান?

আসমা অধরা: ব্যাপারটা বেশিরভাগই তাৎক্ষণিক। আবার কখনো হয়ত একটা লাইন মাথায় ঘুরতে থাকে, পরে হয়ত আর আগানো যায় না। তাও পরিস্থিতিই আসলে। পরে দেখা যায় সেই লাইন থেকেই কোনো কবিতা হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কবিতার ভাষা ও শৈলী কীভাবে বেছে নেন?

আসমা অধরা: ভাষা আর শৈলী আসলে প্রথম লাইন বা বিষয়টিই লিড করে নিয়ে যায়। আমি কেবল আত্মসমর্পণ করে থাকি। কবিতা তার মতন বয়ে যায়, আমি অনুসরণ করি।

বাংলা ট্রিবিউন: কোন কোন কবির প্রভাব আপনার লেখায় আছে?

আসমা অধরা: এই জায়গাটা আসলে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়! সাধারণত আমি কারো কবিতার বই বা উপন্যাস যাই পড়ি, বেশ কিছুদিন সে রেশ থাকে। আমি ওই রেশ না কাটা পর্যন্ত লিখতে চাই না বা লিখিও না। তবু জীবনানন্দ বা বিনয় এমন আরো অনেকেই আছেন যাদের কবিতা আমরা কোট করি, মুখে মুখে বলে ফিরি, তাদের প্রভাব এড়িয়ে চলার যথেষ্ট চেষ্টা থাকে। সজ্ঞানে কবিতায় প্রভাব পড়ুক এটা আসলে কেউ-ই তো চাইবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: কথাসাহিত্যের চর্চা করেন? এ চর্চা আপনার কবিতায় কতটুকু প্রভাব রাখে?

আসমা অধরা: কথাসাহিত্য ঠিক না। তবে আমি মুক্তগদ্য ভালোবাসি বা চর্চা আছে। আমাকে রীতিমতন টেনে ধরে রাখে। এই প্রভাব কবিতায় যথেষ্ট।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার প্রথম কবিতার বই সম্পর্কে কিছু বলুন। প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি কেমন ছিল?

আসমা অধরা: আমার প্রথম কবিতার বইয়ের নাম ‘একদিন ঠিক হেঁটে যাবো’। এই নামের পেছনের গল্পটা বলা যায়। ২০০৯ এ আমার ভয়াবহ এক্সিডেন্ট হয়। এরপর জানা গেল আমি আর হাঁটতে পারব না কখনো। স্বভাবতই এরপর আজকের আমি হবার পেছনে যে জেদ আর ডেডিকেশন ছিল, তার বহিঃপ্রকাশ প্রথম বইয়ের নাম। যদিও অত্যন্ত কাঁচা এবং আবেগপ্রবণ কবিতা ভরা ছিল সে বইতে, কিন্তু আজকের আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমার প্রথম বইটি।

বাংলা ট্রিবিউন: সমকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ঘটনা কি আপনার কবিতায় প্রভাব ফেলে? যদি ফেলে, তবে কীভাবে তা প্রকাশিত হয়?

আসমা অধরা: অবশ্যই। আমরা যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এই দেশে জন্মটাই আসলে রাজনৈতিক বলব। জন্মের পর থেকেই শুরু হয়। এক হচ্ছে মেয়ে হয়ে জন্ম নেবার পর পারিবারিক, সামাজিক, বা রাষ্ট্রের রাজনীতি সহ্য করে বা বলা যায় টিকে থাকার লড়াই। আর এরপর আসে সাংস্কৃতিক লড়াই। যেমন ধরেন, আমার বাবা খুব সুন্দর গান করতেন কিন্তু যেদিন আমি গান করতে চাইলাম, সেদিন হারমোনিয়াম বিদায় করা হলো আমাদের বাড়ি থেকে। বা থিয়েটারে আগ্রহ ছিল, পারিনি। খেলাধুলায় ভালো ছিলাম, বিশেষ করে টেনিস। দেয়া হয়নি। এগুলোও তো ডেসক্রিমিনেশন, তাই না? এক ধরনের ঘরোয়া রাজনীতি। আর রাষ্ট্রের রাজনীতি তো আছেই। সেও সেই ছোট বয়স থেকেই পারিবারিক ভাবে দেখে আসা এবং তার সাথে নিজেকে মেলাতে না পারা এই সমস্ত কিছু নিয়েই যখন জীবন, তখন এর প্রভাব তো কবিতায় পরিপূর্ণই থাকবে।

বাংলা ট্রিবিউন: পাঠকদের মন্তব্য আপনার লেখায় কোনো পরিবর্তন আনে?

আসমা অধরা: আমি নিজের জন্য লিখি আসলে। তবে পজিটিভ মন্তব্যের চাইতে নেগেটিভ মন্তব্যে আমার নিজেকে শোধরাবার জায়গা তৈরি হয়, তাই অবশ্যই তার প্রভাব থাকে, পরিবর্তন বলতে ওইটুকু।

বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্যতে কী ধরনের কবিতা লিখতে চান? নতুন কোনো ধারা বা শৈলীতে কাজ করার ইচ্ছা আছে কি?

আসমা অধরা: নিজেকে ভেঙেচুরে একাকার করতে চাই। আমি চাইছি নিজের গৎবাঁধা ব্যাপারগুলো থেকে বের হতে। সেই তীব্র তীক্ষ্ণ ভাঙচুরের অপেক্ষায় আছি, আছি নতুন কিছু দেবার চেষ্টায়। কিন্তু ইদানীং চারদিকের পরিস্থিতি নিয়ে এতটাই বিষণ্নতা গ্রাস করে রাখছে, কিছুই হয়ে উঠছে না।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত